জগন্নাথপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ৫ দফা দাবি

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২৬

জগন্নাথপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ৫ দফা দাবি

 

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিনের কাছে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, জগন্নাথপুর একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল এবং এ উপজেলার অর্থনীতি মূলত বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৫টি হাওর ও নন-হাওর এলাকায় ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অতিবৃষ্টি ও অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের দুর্বলতার কারণে সিংহভাগ জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার কৃষক প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি রক্ষায় স্মারকলিপিতে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করে আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা; আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা; ধান সংগ্রহ অভিযানে লটারির জটিলতা পরিহার করে কৃষি কার্ড ও এনআইডি যাচাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা; ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য কৃষকদের অংশগ্রহণে গণশুনানি ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিয়ে স্বচ্ছ পিআইসি গঠন নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকার মৃতপ্রায় খাল ও নদীগুলো খনন করা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক শামীম আহমদ ও সদস্য সচিব আমিনুল হক সিপন।

এ সময় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও তাঁদের সাথে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মারকলিপি গ্রহণ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।###

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ