জগন্নাথপুরে পানির নীচে পাকা ধান, কৃষকদের হাহাকার

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

জগন্নাথপুরে পানির নীচে পাকা ধান, কৃষকদের হাহাকার

 

হুমায়ূন কবীর ফরীদি##

টানা বৃষ্টিপাতে মইয়ার হাওর ও নলুয়ার হাওরে নীচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এমনকি উঁচু জমির ধানও পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। যার ফলশ্রুতিতে কৃষকদের হৃদয়ে হাহাকার বিরাজ করছে।
বিগত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের নীচু এলাকার জমিতে ডোবরার পানি জমলেও গতকাল ২৭শে এপ্রিল সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতে ফসলের মাঠ জলমগ্ন হলেও এই দিনের রাতের বৃষ্টিপাতে নীচু এলাকার দেড় দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এমনকি উঁচু এলাকার ফসলও পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।২৮ শে এপ্রিল সকালে কষ্টার্জিত ফসল পানির নীচে দেখে কৃষক কূল কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ধান কাটার শ্রমিক সংকট থাকায় অনে কৃষক অনেক কষ্ট করেও ফসল উত্তোলন করতে পারেনি। তবে উঁচু জমির ফসল কর্তন করে ঘোলায় তুলতে কৃষকের পরিবার এর লোকজন ও ধান কাটার শ্রমিক দিয়ে দিগুণ শ্রম মূল্যে ধান কর্তনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। থেমে থেমে ভারী বর্ষন আর আগাম বন্যার ভয়ে এবং কষ্টার্জিত বহু ফসল পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক কূলের হৃদয়ে হাহাকার বিরাজ করছে।
এছাড়াও টানা বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে এই উপজেলার মইয়ার হাওর, পিংলার হাওর সহ ছোট-বড় হাওর গুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকা আধপাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে।
নলুয়ার হাওর পাড়ের দাসনোয়াগাঁও গ্রাম নিবাসী কৃষক আলম বলেন, ২৫ কেদার জমি আবাদ করেছিলাম। মাত্র তিন কেদার জমির ফসল ঘোলায় তুলেছি। দুই দিন ও রাতের বৃষ্টিপাতে ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। একই গ্রামের আরেক কৃষক সারদা দাস জানান, তিনি ১৬ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন মাত্র এক কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিন ও রাতে বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি অনেক চেষ্টা করেও ফসল উত্তোলন করতে পারেননি। এই দুই কৃষক সহ একাধিক কৃষক বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেল একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমাদের পরিবার। দারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব।
এব্যাপারে চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার রনধির দাস নান্টু বলেন ,নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল উত্তোলন করতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা শ্রমিক সংকট ভূগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। তার ধারণা কমপক্ষে দেড়- দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
নলুয়ার হাওরের কৃষক আখলুছ মিয়া, মধু মিয়া, সোয়েব আহমদ মাসুম মিয়া, হরিন্দ্র দাসসহ অনেক কৃষক বৃষ্টির পানিতে তাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্হা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে ফসল ডুবি ঘটছে। তাদের দাবি হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ এবার তাদের জন্য মরণফাঁদ হয়েছে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কাওছার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওরের ৬০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষক ধান তুলতে কষ্টে আছেন।এরই মধ্যে টানাবৃষ্টি ফসলের কিছু ক্ষতি করছে। তবে এখনো ক্ষতি বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দিন জানান, আমি হাওরে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় এই চেষ্টা করছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ