জগন্নাথপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে শতবর্ষী হাজী গফুরের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

জগন্নাথপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে শতবর্ষী হাজী গফুরের সংবাদ সম্মেলন

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাইলগাঁও ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের শতবর্ষী হাজী আব্দুল গফুর। তিনি একই গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে সিরাজ আলী কর্তৃক দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও বিভিন্ন হয়রানি থেকে রক্ষাপেতে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ২৬ এপ্রিল ু রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময় জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজী আব্দুল গফুর জানান, দীর্ঘদিন যাবত তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর পুত্র সিরাজ আলী কর্তৃক নানা ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাস্তা নিয়ে সিরাজ আলীর পিতা নোয়াব আলীর সাথে রাস্তা দিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ১৭/১১/১৯৯৮ সালে তৎকালীন ইউ/পি চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিনের উপস্থিতিতে রাস্তার বিষয়টি মিমাংসা হয়। এর পর সিরাজ আলী আপোষ মিমাংসা অমান্য করে গায়ের জোরে আমার মালিকনানা ভূমি জোরপূর্বক রাস্তা হিসাবে ব্যবহার করার পাশা-পাশি আমার মালিকানা জমিনের পানি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে তাদের নিকটবর্তী আমার মালিকনা ভূমির উপর গাছগাছালি রোপণ করে ফসল উৎপাদনে বাঁধাগ্রস্থসহ ভূমি আত্মসাৎ করার পাঁয়তারায় লিপ্ত থাকায় আমি ১৩/১২/২০১৭ ইং তারিখে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয় সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পাইলগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন। তদন্তকালীন সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও সিরাজ আলীর অসহযোগিতার কারনে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে ৩/১/২০১৮ ইং তারিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর চেয়ারম্যান প্রতিবেদন প্রেরন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমার মালিকনা যাতায়াতের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ২২/১০/২০২০ইং তারিখে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের তদন্ত করে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে ৩/১২/২০২০ইং তারিখে নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর পর সিরাজ আলীর বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নাই। এর পর সিরাজ আলী আরো উত্তেজিত হয়ে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের উপর বিভিন্ন সময় আক্রমন করে আহত করে। এই সব বিষয়ে আমি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। সম্প্রতি সিরাজ মিয়া সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে আমাদের উপর আক্রমন করে আমি ও আমার ছেলেকে আহত করে। এই ব্যাপারে আমি মামলা দায়ের করি। মামলা দায়ের করার পর উল্টো সিরাজ আলীর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কিন্তু সিরাজ আলী প্রকাশ্যে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যকে হুমকি প্রদান করলে ও পুলিশ আমার দায়ের করা মামলায় সিরাজ আলী বা কোন আসামী গ্রেফতার করছেনা। সিরাজ আলীর বিরুদ্ধে তিনি বিশেষ করে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক হয়রানি এবং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়ায় এসব সমস্যা মোকাবিলা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সিরাজ আলীর অসযোগিতার কারনে কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানে মানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ