সুনামগঞ্জ জেলা শাখা বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ এর সম্মেলনে হাতা-হাতি

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলা শাখা বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ এর সম্মেলনে হাতা-হাতি

 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে পরিচালক ও মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ২৪ এপ্রিল রোজ শুক্রবার দুপুরে শহরের শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে। সম্মেলনে জেলার ১২ উপজেলার আহ্বায়কসহ শাখার নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় ও সিলেটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত ও প্রদীপ প্রজ্বলনের পর মঞ্চে আসন বিন্যাস নিয়ে আপত্তি তোলেন একপক্ষ।তাদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠ নেতাদের মঞ্চে যথাযথ স্থান দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক নারায়ন চক্রবর্তী বলেন, ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান শুরু করি এবং কেন্দ্রীয় সংসদের সম্মানিত অতিথিবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যাডভোকেট অশোক গোস্বামী কিন্তু হঠাৎ করে একটি পক্ষ মঞ্চে উঠে এসে উপস্থাপকের কাছ থেকে মাইক ছিনিয়ে নেয়।তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, পদ-পদবি নিয়ে কোনো বিরোধ, নাকি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব তা আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারিনি।
নারায়ন চক্রবর্তী আরও বলেন, যদি তাদের কোনো বক্তব্য বা দাবি থেকে থাকে, তাহলে সেটি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উপস্থাপন করা যেত। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং জোরপূর্বক মাইক নিয়ে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটি সুস্পষ্ট গঠনতন্ত্র রয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও কষ্টে, অর্থ সংগ্রহ করে আমরা এই সম্মেলনের আয়োজন করেছি। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অপরদিকে সংগঠনের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সনৎ আচার্য্য বললেন, নারায়ণ চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে কয়েকজন সংগঠনকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান।তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চার বছর পার করেছে তারা।আজকের সম্মেলনেও তারা আবার সবকিছু তাদের কাছেই রাখতে চেয়েছে। নারায়ণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ১২ জন এসেছে।আমরা এসেছি ৭২ জন। আমাদেরকে তারা গুরুত্ব দেয়নি।
এবিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, হঠাৎ করে বিভিন্ন জায়গা থেকে কল আসছিল কালীবাড়ি মন্দিরে কি এক কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের উত্তেজনার পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মোবাইল পার্টি পাঠাই। আমাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষ একে অপরকে ধাওয়া করার জন্য সেখানে চেষ্টায় ছিল।পরে আমরা দুই পক্ষকে বের করে দেই, বের করে দেওয়ার পর এলাকা শান্ত আছে।এ বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করে নাই, তবে সেখানে যদি পুলিশ না যেত তাহলে তাদের অভ্যন্তরীণ মারামারিতে আহত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমরা সঠিক সময় যাওয়ার কারণে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ