জগন্নাথপুরে চোরের বাড়ী হতে বন্দুকের গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

জগন্নাথপুরে চোরের বাড়ী হতে বন্দুকের গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

 

হুমায়ূন কবীর ফরীদি##

জগন্নাথপুরের পল্লীতে চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য গরু চোর ছমেদ(৪৫) এর বসত ঘর থেকে বন্দুকের গুলি (কার্তুজ) ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এনিয়ে এলাকায় আতংক -উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী ও থানা সুত্রে জানাযায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ১নং কলকলিয়া ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত কান্দারগাঁও গ্রাম নিবাসী মৃত নাসির মিয়ার ছেলে আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ছামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক(৪৫) ও তার স্থানীয় সহযোগীদের চুরি-ডাকাতি সহ নানাবিধ সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে একই গ্রাম নিবাসী মৃত আজিুর রহমান তালুকদার এর ছেলে গণমাধ্যম কর্মী সামছুর রহমান জাবেদ(৪৩) গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বাদী হয়ে কথিত গরু চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ছামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক(৪৫) কে প্রধান আসামী করে ৮ জনের নাম উল্লেখ সহ ৪/৫ জন গং ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে চলতি এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম এর দিক নির্দেশনায় অত্র থানার এসআই কবির আহমেদ এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় এসআই শাহজামাল সহ একদল পুলিশ ২১শে এপ্রিল বেলা প্রায় আড়াই ঘটিকার সময় কান্দারগাঁও গ্রামে পৌঁছে দেখতে পান জাবেদ পক্ষের লোকজন ও গরু চোর পক্ষের লোকজন এর মধ্যে দেশীয় অস্ত্র সশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝগড়া চলছে। পুলিশ এর উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় পক্ষ সটকে পড়ে। তৎসময় আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ভুক্ত পলাতক আসামী ও এই অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী ছামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক (৪৫) এর খোঁজ করতে গিয়ে এই আসামীর ঘর তল্লাশিকালে আসামী ছামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক (৪৫) এর বসত ঘর থেকে বন্দুকের দুইটি গুলি (কার্তুজ), পাইপগান সদৃশ্য স্টীলের কয়েক টুকরো হাত দেড়েক লম্বা পাইপ উদ্ধার করেছেন। যা থানা হেফাজতে রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। তমধ্যে গণমাধ্যম কর্মী সামছুর রহমান জাবেদ(৪৩) পক্ষের বয়োবৃদ্ধ আলিফ মিয়া (৭২) মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ছামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক একজন চিহ্নিত গরু চোর। তার বিশাল বাহিনী রয়েছে। তার অপকর্মের জন্য আমরা এলাকাবাসী লজ্জায় মূখ দেখাতে পারিনা। তাকে শাসন করতে চাইলেই সে কিপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকাবাসীর সাথে বাজে আচরণ করে। যার দৃশ্যমান প্রমাণ পুলিশ প্রশাসন তাহার বসত ঘর থেকে বন্দুকের কার্তুজ ও পাইপগান সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আমরা এমনিতেই আতংকি এখন মনে আরো আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে গরু চোর ছমেদ সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগকারী গণমাধ্যম কর্মী সামছুর রহমান তালুকদার জাবেদ বলেন, চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ছামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক (৪৫) একজন চিহ্নিত গরু চোর, ডাকাত ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। স্থানীয় ভাবে তার বিশাল বাহিনী রয়েছে। তার চুরি -ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। প্রতিনিয়ত তার বিরুদ্ধে গ্রামে বিচার আসে। গ্রামবাসীকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সহযোগীদে নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানসম্মান এর স্বার্থে নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে আমি বাদী হয়ে সম্প্রতি ছামাদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করি। অভিযোগের তদন্ত করতে এসে থানা পুলিশ গরু চোর সামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক এর বসত ঘর থেকে বন্দুকের দুই টি গুলি ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছেন। আমরা এলাকাবাসী জানমালের নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি। থানায় অভিযোগ দায়ের করায় ২১ এপ্রিল বিকালে ছামাদ ও তার সহযোগীরা আমাদের লোকের উপর অতর্কিত হামলা করে কয়েকজনকে আহত করেছে। তমধ্যে গুরুতর আহত বয়োবৃদ্ধ আলিফ মিয়া (৭২) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই আইনের দারস্থ হয়েছি। আমি প্রশাসনের নিকট সুবিচার আশা করছি।
এ ব্যাপারে অভিযোগ  তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই কবির আহমেদ বলেন, ওসি মহোদয়ের নির্দেশনায় অভিযোগ এর তদন্ত করতে গিয়ে দেখি এই দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় পক্ষ শান্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ভুক্ত আসামী সামাদ ওরফে ছমেদ ওরফে ছদেক(৪৫) কে খোঁজতে গিয়ে তার বসত ঘর তল্লাশীকালে ঘর থেকে বন্দুকের দুটি গুলি ( কার্তুজ) হাত দেড়েক লম্বা কয়েক টুকরো স্টীলের পাইপ উদ্ধার করেছি। যা থানা হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, কান্দারগাঁও গ্রামের ছামাদ ওরফে ছমেদ (৪৫) নামক ব্যক্তির বসত ঘর থেকে বন্দুকের গুলি (কার্তুজ) ও ছোট ছোট কয়েক টুকরো স্টীলের পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ