প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
হুমায়ূন কবীর ফরীদি #
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও তমধ্যে খেলাফ মজলিস এর প্রার্থী হাফিজ শেখ মুশতাক আহমেদ (ঘড়ি মার্কা প্রতীক) নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়িয়েছেন। তমধ্যে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ও স্বতন্ত্র তালা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এর মধ্যে লড়াই হবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভোটের মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন শুধু অপেক্ষার পালা কে হাসবেন বিজয় এর হাসি। আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা সমাপ্ত হয়েছে।
আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকী। রাত পোহালেই সারা দেশের ন্যায় জগন্নাথপুর উপজেলা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ -৩ আসনে ভোট। ইতিমধ্যে আজ ১১ ফেব্রুয়ারী রোজ বুধবার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছে গেছেন ভোট কেন্দ্র গুলোতে।প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে এবার ৭জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে লড়ছেন তমধ্যে নির্বাচন এর শেষ মুহূর্তে একজন প্রার্থী খেলাফত মজলিশের হাফিজ মুশতাক আহমদ (ঘড়ি মার্কা) সাংবাদিক সন্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ব্যালেট পেপারে সাতটি প্রতীক থাকলেও মুলত ভোটযুদ্ধে ৬জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে নির্বাচনী শেষ লড়াইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ,সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন, বিএনপির বিশাল কর্মী বাহিনীর সাংগঠনিক সমর্থন ,জাতীয় পার্টি ও আল ইসলাহর আনুষ্ঠানিক সমর্থন এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের অংশ গ্রহণে এক কথায় সার্বিক দিক থেকে ভোটের সমীকরণে এগিয়ে আছেন। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে আলোচনায় রয়েছেন। তার নিজ এলাকা শান্তিগঞ্জের আঞ্চলিকতা তৈরি করে ধানের শীষ কে টপকাতে চেষ্টা করছেন।তার সাথে বিএনপির একটি বহিস্কৃত অংশ রয়েছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের সমর্থন রয়েছে বলে প্রচারনা করা হচ্ছে।
এই আসনে ১০ দলীয় জোটের দুই প্রার্থী দলবদলসহ নানা সংকটে পড়ে মুল লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছেন বলে মনে করছেন সচেতন ভোটাররা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র ও জগন্নাথপুর – শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলা। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১০হাজার ৬২৯ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮হাজার ২৮৩ জন। অপরদিকে আটটি ইউনিয়ন নিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা গঠিত। সেখানে পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ৬১৪ জন ও মহিলা ভোটার ৭৫ হাজার ৪৮৪ জন। ভিআইপি আসন হিসাবে পরিচিত ইতি পূর্বে এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে একাধিক বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও ভাষা সৈনিক প্রয়াত আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও তার ছোট ভাই ফারুক রশীদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ থেকে ২৪ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে এম এ মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারা সকলেই এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ২০০৫ সালে আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর শুন্য ঘোষিত উপ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা শাহীনুুর পাশা চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে শামসুল আবেদীন ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গুলজার আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকার উন্নয়নে তারা ও আন্তরিক ছিলেন।
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের দলীয় প্রার্থী এবার এ আসনে না থাকায় ভোটের সমীকরণ অনেকটা বদলে গেছে। দলগুলোর ভোট টানার ওপর জয় পরাজয় অনেকটা নির্ভর করছে। সার্বিক জনমত পর্যালোচনায় ভোটারদের সাথে আলাপ করে আভাষ পাওয়া গেছে মুল লড়াই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ধানের শীষ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বহিস্কার) ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেনের তালা প্রতীকের মধ্যে হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। কারণ ১০ দলীয় জোটের একক কোন প্রার্থী না থাকায় ধুম্রজাল দেখা দিয়েছে। ১০ দলীয় জোট ভোটের লড়াই থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এ জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী রিকশা প্রতীকে লড়ছেন। অপরদিকে আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ঈগল পাখি প্রতীকে লড়ছেন। তাঁরা দুইজনই মুল লড়াইয়ে ফিরে আসার প্রানান্তকর প্রচেষ্টা করছেন। কিন্তু এ জোটের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে কাউকে সমর্থন না দিয়ে ভোট থেকে দূরে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ইসলামির নির্বাচনে না থাকায় তাদের ভোট টানতে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কয়ছর আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন। অপরদিকে ১০ দলীয় জোটের দুই প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী ও সৈয়দ তালহা আলম মুল লড়াইয়ে ফিরতে চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফিজ মুশতাক আহমেদ দেয়ালঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ ফুটবল প্রতীক ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুল খালেদ তুষার টেবিল ঘড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এই আসনের শতাধিক ভোটার অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, এবার বিএনপি সরকার গঠন করার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এলাকার উন্নয়ন এর স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। আমাদের সুনামগঞ্জ – আসনের প্রার্থী কয়ছর ভাই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর অতি আস্থাভাজন লোক। তিনি সংসদে গেলে অন্যান্য এলাকার চেয়ে আমাদের এলাকায় বেশী কাজ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তারা আরো বলেন, কে কোন দল করেন কোন অঞ্চলের সেটা বড় কথা নয়। বড় হচ্ছে এলাকার উন্নয়ন। তাই এবারের ভোট ধানের শীষেই দিব।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ বাসীর ভালবাসা পেয়ে আমি ধন্য। ইনশাআল্লাহ আমাদের বিজয় হবে।
১০ দলীয় জোটের রিকশা প্রতিকের প্রার্থী শাহিনূর পাশা জানান,গনসংযোগে আমি মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করছি।
এবি পার্টির তালহা আলম বলেন, আমরা জয়ের লক্ষ্যে কাজ করছি। বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেছেন, তালার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি । জনগন এবার চমক দেখাবে।
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest