প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫
অভিযুক্ত তিনজন। ছবি: যুগান্তর
ইউএস বাংলা বার্তা ডেস্কঃ
এক নারীকে নিয়ে টানাটানি করছেন চল্লিশোর্ধ্ব দুই ব্যক্তি। দুজনই ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করছেন। একপর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি। দুজনের টানাটানি ও হাতাহাতি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর শহরের চারখাম্বার মোড়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে তিনজনকেই থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এতে আরও উত্তেজনা বাড়ে। থানা চত্বরেই নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ওই তিনজনকেই ১৫১ ধারায় (নিরাপদ হেফাজত) মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতাররা হলেন- ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার বিকাশ অধিকারী, ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডু ও একই এলাকার সীমা অধিকারী।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকাশ অধিকারীর সঙ্গে সীমা অধিকারীর প্রায় ৩৬ বছরের সংসার। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে; কিন্তু এ সংসার ছেড়ে সীমা অধিকারী সম্প্রতি ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, বিকাশ অধিকারীর ঘর ছেড়ে পালিয়ে পলাশের হাত ধরে তিনি ভারতে চলে যান এবং সেখানে তারা বিয়েও করেন। এরপর সোমবার রাতে তারা যশোরে এসে একটি হোটেলে ওঠেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিকাশের সন্দেহ হয় এবং তিনি সেই হোটেলে যান। এরপরই ত্রিমুখী এ ঝামেলা গড়ায় থানা পর্যন্ত।
পলাশ কুন্ডু জানান, সীমার সঙ্গে তার তিন বছরের সম্পর্ক। তারা দুজনেই স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং এখন একসঙ্গে থাকতে চান; কিন্তু তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিকাশ।
সীমা অধিকারী বলেন, বিকাশের সংসারে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি বাধ্য হয়ে বিকাশকে ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর বিকাশের সঙ্গে সংসার করবেন না।
বিকাশ অধিকারী দাবি করেন, সীমার পরকীয়ায় কারণে তাদের সংসার ভেঙে যাচ্ছে। সীমা শুধু বাড়ি ছাড়েননি, বরং পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে গেছেন। তিনি সীমাকে যে কোনো মূল্যে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় দীর্ঘক্ষণ তাদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। পরে ১৫১ ধারায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
যশোর আদালতের কোর্ট পরিদর্শক রোকসানা খাতুন বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক শান্তনু কুমার মন্ডল তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সুত্রঃ যুগান্তর
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest