হুন্ডি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

 হুন্ডি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

স্টাফ রিপোর্টারঃ
দর্শনা জয়নগরের হুন্ডি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ  প্রকাশ করায় দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানাসহ ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন আওয়ামী লীগের দোসর জাহাঙ্গীর হোসেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সীমান্ত শহর দর্শনা দিয়ে অনেক আ.লীগের দোসর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সহায়তাকারী হুন্ডি ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর আলম কোন ক্ষমতা বলে তার হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নেপথ্যে জাহাঙ্গীরকে কে শক্তি যোগাচ্ছে তা নিয়ে সচেতন মহলের মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ? অনেকেই মন্তব্য করে বলেছেন হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কোন দল থাকে না, যে যখন ক্ষমতায় আসে রাতারাতি খোলস পাল্টে তারা সেই দলের লোক হয়ে যায়। হুন্ডি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আ.লীগের চিহ্নিত দোসর হলেও পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে বর্তমান রাজনীতির সাথে মিশে গেছেন। আর এ কাজের সহযোগি হিসাবে আছেন তার  ভাই সুরুজ মিয়া ও জাহিদ হাসান ও তারেক।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী সরকার রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতায় আসার পর কুষ্টিয়ার খোকসা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন চুয়াডাঙ্গা দর্শনা পৌর এলাকার জয়নগরে নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সীমান্ত এলাকায় বসবাস করার সুযোগে হুন্ডি ব্যবসার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। স্বর্ণ ও রূপা চোরাচালান ও মাদকের টাকা তার হাত দিয়ে ভারতে পাচার হতে থাকে। দিন দিন ভারত ও বাংলাদেশের হুন্ডি কারবারিদের সাথে তার চরম সখ্যতা গড়ে ওঠে। কয়েকদিনের ব্যবধানে আলিশান বাড়িসহ খোকসা নিজ এলাকায় নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। ২০১৮ সালের ছোট একটি টোং দোকান থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া জাহাঙ্গীরকে আর পায়কে। শুধু তাই নয় দেশের গোপনিয় খবর তার মাধ্যমে ভারতে পৌছিয়ে যায় বলে জনশ্রতি রয়েছে। জাহাঙ্গীরের নানা অপকর্ম নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক আজকের বসুন্দরাসহ বিভিন্ন  পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে জাহাঙ্গীর  ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। প্রকাশ্যে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে  প্রাণনাশের হুমকি দেয় পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানাসহ তার সাংবাদিকদের ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ আনুমানিক দুপুর ২ টার দিকে যার কল রেকর্ড সুরক্ষিত আছে  । জীবনের নিরাপত্তা ঝুকির কথা চিন্তা করে সোহেল রানা দর্শনা থানায় ১১.১২.২৫ তারিখে একটি জিডি করেন। দর্শনা থানা পুলিশ জিডি তদন্তপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন সমন জারি হয় জাহাঙ্গীরের নামে। গত মে মাসের ২৫ তারিখে সমন পাওয়ার পর  থেকে বিভিন্ন ফেসবুক ফেক আইডি খুলে পত্রিকার সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের নামে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন  জাহাঙ্গীর  এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২  জুন ২০২৬ তারিখে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানা, পত্রিকার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও আসহাবুল আলমের নামে আদালতে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করে জাহাঙ্গীর। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের উপর তদন্তভার দেন। সাংবাদিকদের নামে চিহ্নিত হুন্ডি ব্যবসায়ি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা করায় সাংবাদিক মহলসহ সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে জনশ্রুতি রয়েছে ৫ আগষ্ট পরবর্তী জাহাঙ্গীর আলম কিছুদিন আত্নগোপনে চলে যান। সুযোগ বুঝে এলাকায় ফিরে আসেন এবং জামাত ইসলাম দলে যোগদান করে তার  হুন্ডি ব্যবসার হাল ধরেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে জয়নগর গ্রামের কয়েকজন বলেন, ৫ আগষ্ট পরবর্তী এলাকার চিহ্নিত আ.লীগের দোসরদের রাতে আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে ভারতে চলে যাবার সুযোগ করে দেন জাহাঙ্গীর। কারণ তার দেশে এবং ভারতে রয়েছে সিন্ডিকেট। ভারতে পালিয়ে  থাকা আ.লীগের দোষরদের সাথে ভারতীয় সিম ব্যবহার করে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলে জোর গুঞ্জণ বাতাসে ভাসছে। বর্তমানে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া হুন্ডি টাকা তার মাধ্যমে পাচার হয়ে থাকে। তাই তিনি প্রকাশে বলে থাকেন আমার হাত অনেক উপরে। তোদের মত সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে লিখে কিছু করতে পারবি না। জেলার প্রশাসনের সব বিভাগের সাথে আমার রয়েছে যোগাযোগ। আমার বিরুদ্ধে কিছু লিখলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। ফলে এলাকাবাসির দাবি হুন্ডি ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর সামান্ত এলাকায় বসবাস করে দেশের তথ্য, স্বর্ণ, রুপা ও মাদকের টাকা হুন্ডি মাধ্যমে ভারতে পাচার দেশের জন্য বড়হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। চিহ্নিত হুন্ডি ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের গ্রেফতার জোর দাবি তুলেছে সচেতন মহল। সেই সাথে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা করায় তিব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক মহল।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ