ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জন্য যেসব মার্কা

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জন্য যেসব মার্কা

সংগৃহীত ছবি
ইউএস বি ডেস্কঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক। দীর্ঘ সময় পর নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্দিষ্ট প্রতীক সংরক্ষণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যানের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্যের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

এ–সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালার প্রজ্ঞাপনে ১৬ সেপ্টেম্বর সই করে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিতে প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীদের জামানত, নির্বাচনী ব্যয়সীমা এবং ভোটের অনিয়ম মোকাবিলায় কমিশনের ক্ষমতাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে ২০ প্রতীক

চেয়ারম্যান পদে সংরক্ষিত প্রতীকগুলো হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ প্রতীক

সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের জন্য রাখা হয়েছে—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।

সাধারণ সদস্য পদে ১২ প্রতীক

সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকগুলো হলো—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

বাড়ল জামানত

সংশোধিত বিধিমালায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আগে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ পেলেই জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল।

বাড়ল চেয়ারম্যানের নির্বাচনী ব্যয়সীমা

চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জন্য ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

অনিয়মে ইসির ক্ষমতা বাড়ল

নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও সংশোধিত বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে গুরুতরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে কমিশন।

প্রয়োজনে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের ব্যবস্থাও করতে পারবে ইসি।

এ ছাড়া নির্বাচনী কাজে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেওয়ার বিষয়েও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হলো।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ