মাধ্যমিকে “গুণী শিক্ষক” এর স্বীকৃতি পেয়েছেন জগন্নাথপুরের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

মাধ্যমিকে “গুণী শিক্ষক” এর স্বীকৃতি পেয়েছেন জগন্নাথপুরের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল

হুমায়ূন কবীর ফরীদি##

উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিকে ” গুণী শিক্ষক ” হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন জগন্নাথপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল। তাঁহার এই প্রাপ্তিতে সর্বমহলে আনন্দ বিরাজ করছে। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তাঁহাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন।
জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে নিষ্ঠা, দক্ষ নেতৃত্ব, দায়িত্বশীলতা ও শিক্ষাঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিকে “গুণী শিক্ষক ” হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, হাওর কন্যা খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত গুণীজনদের উর্বর ভূমি জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে তাঁহাকে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার কাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁহার পিতা প্রয়াত ইউছুফ আলী একই উপজেলাধীন সাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন এই খবর এলাকায় পৌঁছা মাত্রই তাঁহার কর্মস্থল আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী অভিভাবক, এলাকার সচেতন মহল, শিক্ষক, অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থী বৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর পাশা-পাশি তাঁহার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য ও বিদ্যালয় সুত্রে আরো জানাযায়, ১৯৯৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন নিরহংকারী, ভদ্র ও নম্র মনের অধিকারী এইচ এম আজমল।এবং ২০০৮ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ১৩ মার্চ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশা-পাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁহার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। এছাড়াও গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। আরো জানাযায়, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় শীতকালীন স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। এমনকি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে দীর্ঘ এক মাস প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভ করেন। শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উৎসাহ ও সহযোগিতার এটি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও রয়েছে এইচ. এম. আজমল এর অনন্য ভূমিকা। তাঁহার দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে চারতলা ভিত্তিবিশিষ্ট দুটি নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। একাডেমিক ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০১২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ২৭ শতাংশ। একই পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ১ হাজার ২১৩ নাম্বার পেয়ে জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এইচ. এম. আজমলের এ মনোনয়নকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ইতিবাচকভাবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত একজন শিক্ষকের এই স্বীকৃতি তাঁহার শিক্ষকতা জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ রায় একান্ত আলাপকালে বলেন, গুণী শিক্ষক হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমলকে মনোনীত করা হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁহার নাম জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ