দিরাইয়ের ঘটনায় জগন্নাথপুরে অস্ত্রধারী-সেনাবাহিনীর গুলাগুলি, মরদেহ উদ্ধার ও ৪জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৫

দিরাইয়ের ঘটনায় জগন্নাথপুরে অস্ত্রধারী-সেনাবাহিনীর গুলাগুলি, মরদেহ উদ্ধার ও ৪জন গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের গাদিয়ালা গ্রামে অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের ধরতে সেনাবাহিনীর অভিযানকালে অস্ত্রধারী ও সেনাবাহীনির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই সময় দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রাম নিবাসী তাজ মিয়ার ছেলে আবু সাইদ (৩২) নামক এক মোটর মেকানিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান চেয়ারম্যান যুবলীগের নেতা একরার হোসেন ও একই গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমানের মধ্যে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এর জেরে দুদিন ধরে গ্রামে উত্তেজনা চলছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে গত শুক্রবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্র প্রদর্শন হয়েছে প্রকাশ্যে। বিগত ২২শে জুন রোজ রবিবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর একটি দল অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের ধরতে হাতিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। খবর পেয়ে হাতিয়া গ্রাম  থেকে সন্ত্রাসীরা নৌকা যোগে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেনাবাহিনী সেখানে গিয়ে এই গ্রাম ঘেরা করলে সেখানে আশ্রয় নেওয়া সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এ সময় সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। পরে ওই এলাকায় আবু সাঈদের লাশ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে  জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ  মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আবু সাঈদ নামক এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে এখনও কোন মামলা হয়নি।

সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গত ২০ জুন ২০২৫ তারিখ, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা একরার আহমেদের লোকজনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং একজন গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়াও একরার আহমেদ ও তার অনুসারীরা প্রায়ই বর্ণিত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আসছিল। এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ থেকে গতকাল  সেনাবাহিনীর একটি টহল দল অস্ত্রধারীদের ধরতে হাতিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। বিকেলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখে এক পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীও গুলি চালায়। পরবর্তীতে একরার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে শুরু করে। টহল দল ওই স্থানে গিয়ে একজনের মরদেহ দেখতে পায়। এই ব্যক্তি কার গুলিতে মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে একটা একনলা বন্দুক, ৪ টা পাইপগান, ৬ টা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, বন্দুকের গুলি, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র সহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ