প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৩
ইউএস বাংলা বার্তা ডেস্কঃ
নদীমাতৃক জেলা কুড়িগ্রামের বৃহত্তম একটি উপজেলার নাম উলিপুর। এ উপজেলার আয়তন ৫০৪.১৯ বর্গকিলোমিটার। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এখানকার জনসংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি। এই একটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৬টি অদ্ভুত নাম রয়েছে।
নানাজনের, নানা মতে বিভিন্ন সময় এসব নাম স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই নামগুলো এখন সবার মুখে মুখে। এমন বিরল সব নাম নিয়ে এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকার মানুষের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। তবে দূর-দূরান্ত থেকে কেউ গিয়ে এসব নাম শুনলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
নামগুলো হলো, ভূতের বাজার, ফাঁসি দেওয়া, বিবিসির মোড়, দাঁতের বাজার, প্রেমের বাজার, ভদ্রপাড়া, মদনার পাড়, টেংনা কুড়া, মহিষ খাওয়ার ব্রিজ, জোলা পাড়া, বুড়াবুড়ি, ছাওয়া পোতার পুল, বামনের হাট, আলশিয়ার (অলস) মোড়, ক্ষুদের মোড়, নামাজের চর ইত্যাদি।
ভূতের বাজার
উপজেলার গুনাইগাছে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভূতের বাজার নামে একটি বাজার রয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় ওই এলাকাটি নির্জন ছিল। লোকজন দিন কিংবা রাতে একা চলাচল করতে পারত না।
কাউকে একা পেলে ভূত তাদের গলা টিপে ধরত! এরপর ধীরে ধীরে ওই এলাকায় জনবসতি গড়ে ওঠে। পরে একটি বাজার হলে সেটি ভূতের বাজার নামে পরিচিতি পায়।
বিবিসির মোড়
ভূতের বাজারের পাশেই রয়েছে বিবিসির মোড়। লোক মুখে শোনা যায়, ওই মোড়ে জেলাল নামের এক ব্যক্তি প্রথম একটি চায়ের দোকান দেন। সকালবেলা উনি চায়ের দোকান খুলে রেডিওতে বিবিসি সংবাদ দিতেন।
সে সময় সকাল-সন্ধ্যা সেখানে আশপাশের মানুষ গিয়ে চা খেত আর বিবিসি রেডিওর সংবাদ শুনত। একদিন রেডিওটা নষ্ট হওয়ার ফলে বিবিসির সংবাদ শোনা বন্ধ হয়ে যায়। জেলাল মিয়ার পক্ষে রেডিও মেরামত করাও সম্ভব ছিল না। কিন্তু সেখানকার লোকজনের বিবিসির খবর না শুনলে যেন দিনটাই ব্যর্থ। পরে চা খেতে যাওয়া লোকজন নিজেরাই রেডিওর মতো করে দেশের রাজনৈতিক বিষয়সহ বিভিন্ন এলাকার খবর নিয়ে আলোচনা করতেন। সেই থেকে মোড়টির নাম হয় বিবিসির মোড়।
বিবিসির মোড় নামকরণের কারিগর জেলাল উদ্দিনকে খুঁজে পেয়েছে এ প্রতিবেদক। বর্তমানে তিনি ঢাকায় কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে জেলাল উদ্দিন মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০০৩ সালে ওই মোড়ে একটিমাত্র চায়ের দোকান ছিল আমার। সে সময় আমার একটি হলুদ রেডিও ছিল। রেডিওতে বিবিসির সংবাদ প্রচার হতো। চা খেতে আসা মানুষজন সে খবর মনোযোগ দিয়ে শুনত। একদিন রেডিও নষ্ট হলে আর ঠিক করা হয়নি। বিবিসির সংবাদ প্রচার হওয়ায় কয়েকজন এলাকাবাসী মিলে ওই মোড়ের নাম দিই বিবিসির মোড়। পরে ধীরে ধীরে জায়গাটি সকলের কাছে বিবিসির মোড় নামে পরিচিতি পায়।
ফাঁসি দেওয়া
থেতরাই ইউনিয়নে রয়েছে ফাঁসি দেওয়ার বাজার। জনশ্রুতি রয়েছে কোনো একসময় ওই মোড়ের আমগাছে দুজন ব্যক্তি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহনন করেন। এর পর থেকে মোড়টির নাম ফাঁসি দেওয়া হিসেবে পরিচিতি পায়। সেখানকার কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ জানান, ওই দুই ব্যক্তি কবে ফাঁসি নিয়েছিল তা সঠিকভাবে বলতে পারেন না। তবে তারা বাপ-দাদার কাছে শুনেছেন।
জোলা পাড়া
হাতিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম জোলা পাড়া। বহু বছর আগে ওই পাড়ায় কয়েকটি পরিবার তাঁতের কাপড় বুনতেন। এসব পরিবারের লোকজন অনেকটা সাদাসিধে এবং বুদ্ধিসম্পন্ন না হওয়ায় আশপাশের এলাকার লোকজনের কাছে তারা জোলা (বোকা) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তখন থেকে ওই পাড়ার নাম জোলা পাড়া হিসেবে পরিচিত। তবে এখন আর তাঁতি পরিবার নেই ওই পাড়ায়।
মহিষ খাওয়ার ব্রিজ
ধামশ্রেণী ইউনিয়নের সাত কুড়ারপার এলাকায় একটি ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজটি মহিষ খাওয়ার ব্রিজ নামে পরিচিত। আগেকার সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ততটা ভালো না থাকায় সেখানে একটি কাঠের ব্রিজ ছিল। একদিন ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে মহিষের গাড়ি যাওয়ার পথে ব্রিজ ভেঙে খাদে পড়ে যায়। সে সময় একটি মহিষ মারা গেলে ব্রিজটির নাম হয় মহিষ খাওয়ার ব্রিজ।
বুড়াবুড়ি
বুড়াবুড়ি নামে উলিপুরে একটি ইউনিয়নের নাম রয়েছে। তবে কি কারণে ইউনিয়নটির নাম বুড়াবুড়ি হয়েছে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি।
এ ছাড়াও গুনাইগাছ ইউনিয়নে দাঁতের বাজার, প্রেমের বাজার। ধামশ্রেণীতে ভদ্রপাড়া, মদনার পাড়, টেংনা কুড়া। পৌরসভার শিববাড়িতে ছাওয়া পোতার পুল, ধরণীবাড়িতে বামনের হাট, বজরা ইউনিয়নে আলশিয়ার মোড়, ক্ষুদের মোড় এবং সাহেবের আলগায় নামাজের চর নামে একটি এলাকা রয়েছে।
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest