প্রকাশিত: ৯:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৩
ইউএস বাংলা বার্তা ডেস্কঃ
তালগাছ উপড়ে ফেলা দুই জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্তের নির্দেশ, জরিমানা গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে অজুহাতে ৩০টি তালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ৪০টি গাছের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় পটুয়াখালীর দুই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আগামী এক মাসের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এ দুই জনপ্রতিনিধি হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. সোবাহান হাওলাদার। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রবিবার রায় দেন বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ।
আদালতে ফজলু গাজী ও মেম্বার সোবাহান হাওলাদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান কচি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়া।
আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান কচি কালের কণ্ঠকে বলেন, চেয়ারম্যান ফজলু গাজী ও মেম্বার সোবাহান হাওলাদারকে দুই লাখ টাকা করে জারিমানা করেছেন আদালত। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ টাকা দিতে বলা হয়েছে।
আর ইউএনওকে বলা হয়েছে, ওই টাকা দিয়ে তালগাছ কিনে ওই সড়কে রোপণ করতে। বাকি টাকা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যয় করতে বলা হয়েছে।
‘পটুয়াখালীর কলাপাড়া/গ্রামের ৩০টি তালগাছ কাটলেন চেয়ারম্যান’ শিরোনামে গত ৪ মে প্রতিবেদন ছাপে একটি জাতীয় দৈনিক। পরে ৬ মে এ নিয়ে সম্পাদকীয়ও ছাপা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে এক্সকাভেটর দিয়ে অন্তত ৩০টি তালগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। তালগাছগুলোর বয়স ছিল ২৫ থেকে ৩০ বছর। তালগাছের পাশাপাশি এ সড়কে বন বিভাগের রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির আরো অন্তত ৪০টি গাছের চারাও উপড়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোবাহান হাওলাদারের নির্দেশে এসব গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। সড়কের পাশে যারা এসব তালগাছ রোপণ করেছেন, তারা ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে মুখে কিছু না বললেও ভেতরে-ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন।
পরদিন প্রকাশিত সম্পাদকীয় আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মো. সোহেল। সেদিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে গাছ উপড়ে ফেলার ব্যাখ্যা জানতে মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. সোবাহান হাওলাদারকে তলব করা হয়। ১৮ মে সশরীরে হাজির হয়ে এ ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় তাদের।
এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে ওই দিন বন রেঞ্জ কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাকেও আসতে বলেন আদালত। আর কলাপাড়ার ইউএনওকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাকে ১৮ মে আদালতে ছবিসহ প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত।
রুল জারির আদেশে আদালত বলেন, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, সবুজ বনায়ন, পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষার কথা এবং সর্বোপরি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বৃক্ষরোপণের উদাত্ত আহ্বানকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা (বেঞ্চের দুই বিচারপতি) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নরূপ রুল জারি করছি।
মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. সোবাহান হাওলাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।
নির্দেশ মত গত ১৮ মে হাজির হওয়ার পর ফজলু গাজী ও মেম্বার মো. সোবাহান হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাময়িক বরখাস্ত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানির পর রুল নিষ্পত্তি করে রায় দিলেন উচ্চ আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুই জনপ্রতিনিধির আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান কচি।
সুত্রঃ কালের কন্ঠ
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest