প্রকাশিত: ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৩
হুমায়ূন কবীর ফরীদি ##
ঝুঁকিপূর্ণ জগন্নাথপুরের কাটাগাঙ্গ নদীর উপর অবস্থিত ব্রীজ ভেঙে ট্রাক নদীতে পড়ে চালক ও হেলপার নিহত হওয়ার পর সড়কে সাঁটানো হয়েছে সাইনবোর্ড। এতে জনমনে ক্ষোভের ঝড় বইছে।
বিগত ২২ শে আগষ্ট রোজ মঙ্গলবার বিকাল প্রায় ৩ টা ৪০ মিনিটের সময় পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দী আঞ্চলিক মহাসড়ক এর ইছগাঁও নামক এলাকায় কাটাগাঙ্গ নদীর উপর অবস্থিত স্টীল ব্রীজ ভেঙে মালবাহী ট্রাক নদীতে পড়ে সিলেট জেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন সাহেব বাজার ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত ধুপাগুল গ্রাম নিবাসী মোঃ মসলিম আহমেদ এর ছেলে ট্রাক চালক মোঃ জাকির আহমদ কলিন্স ও কোম্পানিগঞ্জ থানাধীন ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ট্রাকের হেলপার মোঃ ফারুক মিয়া নিখোঁজ হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে অত্র থানার একদল পুলিশ সহ জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস ও সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড়ঘন্টা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে সন্ধ্যালগ্নে ট্রাক চালক জাকির ও হেলপার ফারুক এর মরদেহ উদ্ধার করে। এদিন রাতেই জগন্নাথপুর থানা পুলিশ নিহতদের লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করে। তবে আর্শ্বয্যের বিষয় হলো এই ব্রীজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে ব্রীজ এলাকায় সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড সাটানো না হলেও ২২ শে আগষ্ট এই ব্রীজটি ভেঙে ট্রাক নদীতে পড়ে চালক ও হেলপার নিহত হওয়ার পর অর্থাৎ এই দিন দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১০ টনের অধিক ওজনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির একটি সাইনবোর্ড দুর্ঘটনাকবলিত ব্রীজ এলাকায় সাঁটানো হয়েছে । সাইনবোর্ড লাগানোর সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ ২৩ শে আগষ্ট রোজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর মাঝে ক্ষোভের ঝড় বইছে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর এর শামীম আহমদ, জামাল, বজলু ও রায়হান সহ সচেতন মহল তাদের অভিপ্রায় ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, র্দীঘদিন ধরে পাগলা -জগন্নাথপুর- আউশকান্দী আঞ্চলিক মহাসড়ক এর ইছগাঁও এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কাটাগাঙ্গের ব্রীজ দিয়ে ভারী ভারী অতিরিক্ত যানচলাচল করে আসছিল। এ ব্রীজের পাটাতন খুলে একাধিকবার যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। দায়সারাভাবে জোড়াতালি দিয়ে এই ব্রীজটি সচল রাখা হয়েছে । দুর্ঘটনার আগে কেন ? অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সওজের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির সাইনবোর্ড সাটানো হলো না। মানুষের প্রাণহাণি ও সেতু ভেঙে যাওয়ার পর কেন সাইনবোর্ড লাগানো হলো।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করছেন। সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ বলছে, নিষেজ্ঞা অমান্য করে অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে ব্রীজ পার হাওয়াতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজটি ভেঙে যাওয়া রাজধানী শহর ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জগন্নাথপুর তথা সুনামগঞ্জবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন শ্রমিক নেতা গোলাম রব্বানী জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে রানীগঞ্জ সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ঢাকা আঞ্চলিক এ মহাসড়কে সবধরণের যানবাহনের চাপ বাড়ে। তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাটাগাঙ্গের পাটাতন একাধিকবার খুলে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আসছিল। একমাস আগেই পাটাতন খুলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জোড়াতালি দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার শঙ্কা আগেই ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার আগে ব্রীজ এলাকায় সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড চোখে পড়েনি। এখন শুনছি রাতে নাকি সাইনবোর্ড সাটানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দায়সারার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে ৩০ টন ওজনের ট্রাকটি বেইলী ব্রীজটিতে উঠার সময় ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। ওখানে ১০ টনের বেশি ওঠতে বারণ করে লিখা সাইনবোর্ড আছে। এঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা করেছি আমরা। এক প্রশ্নের জবাবে সাইনবোর্ডের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, এটি অনেক আগেই লাগানো ছিল।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান, পরিবহন আইনে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের লোকজনের নিকট রাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest