প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২৩
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
জগন্নাথপুরে পুলিশের সহায়তায় প্রায় দীর্ঘ ৫ বছর পর জবরদখলকারী আশ্রিত নাতি অজুদ এর কাছ থেকে নিজ বাড়ী-ঘর ফিরে পেয়েছেন বিধবা ভিক্ষুক আবজান বিবি(৮০)। এবং দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর জবরদখলকারী সুদখোর রফিক মিয়ার কাছ থেকে বাড়ী-ঘর ফিরে পেয়েছে শেলিম মিয়া(২০)।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সুত্রে জানাযায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাধীন চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত চিলাউড়া গ্রাম নিবাসী ওয়াহিদ উল্লা ও আবজান বিবি দম্পতির কোনো সন্তানাদি না থাকায় বিগত ২০০৫ সালে নিজেদের দেখবাল করার জন্যে ওয়াহিদ উল্লা ভাতিজা মজমিল মিয়ার ছেলে অজুদ মিয়া( স্পর্কে নাতি)কে নিজের বাড়ীতে আশ্রয় দেন। ২০০৮ সালে স্বামী ওয়াহিদ উল্লা মারা যাওয়ার পর জীবন জীবিকার তাগিদে ভিক্ষা বৃত্তি করতে হয় নিঃসন্তান বৃদ্ধা আবজান বিবিকে।পরে ২০১৮ সালে এই বৃদ্ধাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয় আশ্রিত নাতি অজুদ মিয়া। এবং ঘরের আসবাবপত্র ও বাড়ীর গাছ-গাছালি কেটে বিক্রি করে ফেলে সে। অসহায় আবজান বিবি জনৈক আত্বীয়ার বাড়ীতে থেকে ভিক্ষা করে জীবন চালানোর পাশা-পাশি নিজ ভিটেমাটি অর্থাৎ বাড়ীঘর ফিরে পেতে বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় ভাবে কোনো সমাধান না পেয়ে চলতি মাসের ৩ রা আগষ্ট জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এর সরনাপন্ন হন। এবং বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানকে বলেন। বৃদ্ধার কথা শুনে সরেজমিনে তদন্ত করে গতকাল ৬ ই আগষ্ট রোজ শনিবার বাড়ীটি উদ্ধার করে এই বিধবা বৃদ্ধাকে বাড়ীঘর বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধার থাকার জন্য একটি পালং, লেপ -তোষক ও কিছু পড়নের কাপড় দিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান।
এ ব্যাপারে বৃদ্ধা আবজান বিবি বলেন, স্মামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটি -বাড়ীঘর ফিরে পেতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছি। কিন্তু সুফল পাইনি। অবশেষে কয়েক দিন আগে থানায় গিয়ে ওসি সাহেবকে আমার দুঃখ – কষ্টের কথা বলি।আমার সব কথা শুনে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন। গতকাল ৬ ই আগষ্ট তিনি আমার বাড়ী-ঘর ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কাপড় -চোপড় ও পালং সহ লেপতোষক দিয়েছেন।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল ইসলাম বকুল বলেন, বাড়ী দখলকারী অজুদ মিয়া আমাদের কথা শুনেনি। পুলিশ এসে এই বাড়ী উদ্ধার করে বৃদ্ধা আবজান বিবির জন্য চৌকি, লেপ-তোষক সহ কাপড় -চোপড় কিনে দিয়েছেন। মানবিক কাজের জন্য আমাদের জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, নিঃসন্তান বিধবা বৃদ্ধা এই মহিলাকে তাঁর নিজের বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল আশ্রিত অজুদ মিয়া। অসহায় এই মহিলা থানায় এসে বিষয়টি জানান।বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আাড়ীটি উদ্ধার করে আমরা বৃদ্ধা আবজান বিবিকে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিছু আসবাবপত্র ও কাপড় -চোপড় দিয়েছি।
এদিকে ছাতকের সুদখোর রফিক মিয়া রফিক মিয়া সুদের টাকার জন্য জগন্নাথপুরের শেলিম মিয়ার বসত বাড়ী দখল করে সেলিম মিয়াকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। এমন অভিযোগ এর পরিপেক্ষিতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এই বাড়ীটি উদ্ধার করে সেলিম মিয়াকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ পত্র সুত্রে জানাযায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত ঘুংগিয়ারগাঁও গ্রাম নিবাসী মোঃ সেলিম মিয়ার পিতা নূরুল ইসলাম ২০২১ সালে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ এর অন্তর্ভুক্ত গোয়াসপুর গ্রাম নিবাসী সুদখোর রফিক মিয়ার নিকট হতে সুদে ১ লাখ টাকা আনেন। এবং ধারাবাহিক ভাবে নূরুল ইসলাম এই টাকার সুদ বাবত ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা রফিক মিয়াকে দেন। এক পর্যায়ে বিগত ১১ মাস আগে সুদের টাকার লাভ দিতে না পারায় সুদ ব্যবসায়ী রফিক মিয়া তার পরিবার নিয়ে নূরুল ইসলাম এর বাড়ী দখল করেন। এবং এই বাড়ীতে বসবাস করে আসছিল। এরই মধ্যে চলতি সালের ৪ জানুয়ারী নুরুল ইসলাম স্ট্রোক করে মৃত্যু বরন করেন। তিনি মারা যাওয়ার পর রফিক মিয়া প্রয়াত নূরুল ইসলাম স্ত্রীকে বলে ৬ লাখ টাকা সে পায়। রফিক মিয়া এই টাকা পরিশোধের জন্য নূরুল ইসলাম এর স্ত্রী অর্থাৎ সেলিম মিয়ার মাকে অমানবিক মানসিক অত্যাচার করার পাশাপাশি বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। এসময় সেলিম বাড়ীতে ছিলনা। এর পর থেকে কষ্টের মধ্য দিয়ে মাকে নিয়ে অনত্র ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল সেলিম মিয়া। নিরুপায় হয়ে বসত বাড়ী ফিরে পেতে সেলিম মিয়া গত ২৪ শে জুলাই জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ এর আলোকে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান একদল পুলিশ সহ গত ২ রা আগষ্ট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই বাড়ীটি উদ্ধার করে সেলিম মিয়াকে বাড়ীঘর বুঝিয়ে দিয়েছেন। এসময় কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাসিম, মেম্বার মাসিক আহমদ ও সাবেক মেম্বার তারা মিয়া সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া বলেন, রফিক মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা আমার বাবা এনে ছিলেন। এই টাকার লাভ দিয়েছ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সুদের টাকার জন্য রফিক মিয়া আমার বসত বাড়ী দখল করে আমাদেরকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছিল। বাড়ীটি ফিরে পেতে থানার শরণাপন্ন হই। জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বাড়ীটি উদ্ধার করে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি উনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ।
এ ব্যাপারে কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাসিম বলেন, রফিক মিয়া এলাকায় একজন চিহ্নিত সুদখোর। নূরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী সন্তানকে সুদের টাকার জন্য থেকে বের করে দিয়ে বসবাস করছিল কথিত রফিক মিয়া। একাধিকবার তাকে সালিশ বৈঠকে বসার কথা বলা হলেও সে সামনে আসেনি। এখন এই সুদখোর রফিক মিয়ার কাছ থেকে বাড়ীটি উদ্ধার করে দিয়েছেন জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে দু,পক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাড়ীটি উদ্ধার করে ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া ও তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছি। টাকার বিষয়ে দু’টি স্ট্যাম্প পাওয়া গেছে। তমধ্যে একটিতে ৫ শতাংশ সুদের কথাটি উল্লেখ আছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সুদ বা পাওনা টাকার জন্য কেউ কারো বাড়ী দখল করতে পারে না। এ ধরনের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest