প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৩
ইউএস বাংলা বার্তা ডেস্কঃ
প্রেমের কাছে বাঁধা মানে নি দুই দেশের সীমানার মাঝখানে স্থাপন করা আন্তর্জাতিক সীমানার কাটাতার। ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেতে পরিবারকে না জানিয়ে একা একাই করেছেন পাসপোর্ট, নিয়েছেন ভিসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই দিনের পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের গোহাটির বালিডাঙ্গা গ্রাম থেকে বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দর হয়ে সুনামগঞ্জে প্রেমিকের কাছে ছুটে এসেছে ভারতীয় তরুণী কারিশমা শেখ (১৯)। সুনামগঞ্জে এসে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চরগাঁওয়ের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল আলমের (২৬) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বললেন, ভালোবাসার জন্য আমি সব করতে রাজি। তাই ভালোবাসার বিশ্বাসে ঝুঁকি নিয়ে এতোদূর আসতে পেরেছি।
প্রেমের শত বাঁধা কাটিয়ে অবেশেষে তিন বছরের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। বৈধভাবে বাংলাদেশ এসে আশরাফুল আলমকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে তারা। এতো দূর পরিবার পরিজন ছেড়ে আশরাফুলের বাড়িতে আসায় মানবিক দিক বিবেচনা করে কারিশমাকে মেনে নিয়েছে শ্বশুড় বাড়ির মানুষ। আশরাফুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চরাগাঁও। সে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। বিদেশি বউ গ্রামে আসায় খুশী গ্রামের মানুষ।
ভারতীয় তরুনী কারিশমা শেখ জানান, তিনি ভারতের আসাম প্রদেশের ডিকেরায় হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাঁর বাবা আব্দুল কাসিম শেখ এলাকার একটি জামে মসজিদে ইমামতি করেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে কারিশমা শেখ সবার বড়। কাউকে না জানিয়েই বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। গোহাটি হয়ে কলকাতা যান। পরে কলকাতা থেকে বেনাপোল সীমান্তে আসতে দুই দিন সময়ে লেগেছে তাঁর। বেনাপোল থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে প্রেমিক আশরাফুল।
ভালোবাসার জন্য সবকিছু করতে রাজি কারিশমা পাসপোর্ট, ভিসা করেছেন নিজে নিজেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একা এতদূর চলে আসেন এই তরুণী। এখন একটাই চাওয়া এদেশে আজীবনের জন্য থাকতে চান। সেই জন্য বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আশরাফুল আলম বলেন, ৩ বছর আগে প্রথমে ফেসবুকে পরিচয় আমাদের। পরে তার মোবাইল নাম্বার নিলাম। এরপর থেকে আমাদের মধ্যে একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর থেকেই নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এখন সে বৈধভাবে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। সেখান থেকে আমার বাড়ি নিয়ে আসলে প্রথমে পরিবার মানেন নি। বুঝানোর পর সবাই মেনে নিছে। এখন তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়াটাই আমাদের আশা।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া ত্যাগ করে প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় এই তরুণীকে নিজের সন্তানের মতো করে গ্রহণ করেছেন আশরাফুলের পরিবার। ভারতীয় তরুণীকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আশরাফুল আলমও বেশ খুশি। আজীবন এক সঙ্গে থাকতে স্ত্রী কারিশমা শেখ’কে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদানে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ এই প্রেমিক যুগলের।
আশরাফুল আলমের বোন জামাই কামাল হোসেন বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানতাম না। যখন বাড়িতে নিয়ে আসে তখন জানি যে মেয়েটা ভারতের। এতোদূর থেকে একটা মানুষ ভালোবাসার কারণে ছুটে এসেছে সেই দিক বিবেচনা করে আমরা মেনে নিয়েছি। সে এখন আমাদের পরিবারের একটা অংশ। যেহেতু এটা রাষ্ট্রীয় ব্যাপার তাই বৈধভাবে কিভাবে বাংলাদেশের নাগরিক বানানো যায় সে ব্যাপারে চেষ্টা করবো।
ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিলন মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে আমার ইউনিয়নে এক ভারতীয় মেয়ে এসেছে শুনেছি। পরে পুলিশ সাথে নিয়ে তার বৈধতা যাছাই করে দেখলাম তার সব কিছু বৈধ আছে। বৈধভাবে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করেছে। তারা সুখে শান্তিতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে এবং নাগরিকত্ব পেতে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার আমরা করবো।
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest