জগন্নাথপুরে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, নাদামপুর ও ফরিদপুরবাসীর ভোগান্তি

প্রকাশিত: ১:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৩

জগন্নাথপুরে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, নাদামপুর ও ফরিদপুরবাসীর ভোগান্তি

হুমায়ূন কবীর ফরীদি ##

জগন্নাথপুরে প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরত্বের নাদামপুর পয়েন্ট টু ফরিদপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন ও পায়ে হেটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার ফলশ্রুতিতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন স্কুল- কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষক -শিক্ষার্থী সহ বিপুল জনগোষ্ঠী। প্রায় সময়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। জনস্বার্থে দ্রুততার সহিত এই সড়কের সংস্কাকাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

২২ শে জুলাই রোজ শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাযায় ও জানা গেছে, বিগত ১৯৯৩ সালে প্রয়াত জাতীয় নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর বাস্তবায়নে সুনামগঞ্জের   জগন্নাথপুর – পাগলা সড়কের ভায়া নাদামপুর পয়েন্ট টু ফরিদপুর সড়কটির নাদামপুর পয়েন্ট থেকে দেড়কিলোমিটার পর্যন্ত ইট সলিংয়ের কাজ হয়। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে তিন কিলোমিটার দুরত্বের গ্রামীণ এই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পায়ে হেঁটে ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে  অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে করে নাদামপুর ও ফরিদপুর গ্রামের  বিপুল জনগোষ্ঠী ফের ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েন। জনগণের এই ভোগান্তি লাগবে ২০১০ সালে কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল হাসিম এর প্রচেষ্টায় একটি সংস্থার অর্থায়নে ব্লকের মাধ্যমে এই সড়কের সংস্কার কাজ হলে অত্র গ্রাম দুটির জনসাধারণ সাকুল্যে বছর দুয়েক স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করেন। কিছু দিন পর থেকে আবারো সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়ে ও বড় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও বিগত প্রায় ১০ বছরেও সড়কের সংস্কারকাজ হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে এই গ্রাম দুটির বিপুল জনগোষ্ঠী একমাত্র যাতায়াতের এ সড়ক দিয়ে হেমন্ত মৌসুমে মালামাল নিয়ে কষ্টের মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করেন। বর্ষা মৌসুমে সড়কের গর্ত গুলো কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার সম্মূখীন হতে হচ্ছে । চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কের বেহাল দশা প্রকট আকার ধারণ করেছে।   জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসাধারণ চলাফেরা করছেন। সড়ক এলাকায়  প্রায়ই ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, নাদামপুর – ফরিদপুর সড়ক সংস্কারের পাশা-পাশি  সড়কের সংযোগ স্থাপনে নাগড়াখালে ব্রীজের একান্ত প্রয়োজন। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন কাজে জীবন -জীবিকার তাগিদে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেটে ও  যানবাহনে কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, রাজধানী শহর ঢাকা, বিভাগীয় শহর সিলেট, জেলা শহর সুনামগঞ্জ ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।  এমনকি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন। বিধায় জনস্বার্থে এই গ্রামীণ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়েছন এলাকাবাসী।

এব্যাপারে  জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর সভাপতি নাদামপুর গ্রাম  মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব  একান্ত আলাপকালে বলেন, জীবন জীবিকার তাগিদে বিগত প্রায় ১২/১৩ বছর ধরে এই ভাঙা-ছোড়া সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। দৈনন্দিন কাজে এই সড়ক দিয়ে স্কুল -কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষক /শিক্ষার্থীরা সহ দুই /তিন হাজার জনসাধারণ প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকেন। প্রায়ই ছোট-খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি। এক কথায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা সর্বসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে দিনাতিপাত অতিক্রম করছি। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সুনজর কামনা করছি।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, এই  সড়কের বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করে সংস্কার কাজের জন্য লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মহোদয়কে জানানো হয়েছে । আশাবাদী অচিরেই এই সড়কের সংস্কার কাজ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, নাদামপুর -ফরিদপুর সড়কের সংযোগ স্থাপনে নাগের খালের উপর  ব্রীজের বিষয়টি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ