জগন্নাথপুরে পোনামাছ নিধন চলছে, দেখা দিতে পারে মাছের আকাল

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৩

জগন্নাথপুরে পোনামাছ নিধন চলছে, দেখা দিতে পারে মাছের আকাল

হুমায়ূন কবীর ফরীদি ##

জগন্নাথপুরের নদ-নদী ও হাওরে বিভিন্ন রকমের জাল ও ফাঁদ পেতে অবাধে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা নিধন চলছে। যার ফলশ্রুতিতে হেমন্ত মৌসুমে মাছের আকাল দেখা দিতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর, কুশিয়ারা, রত্না, ডাউকা, কামারখালী ও কাটাগাঙ সহ ছোট-বড় সবকটি নদ-নদী এবং হাওড়-বাওড়, যাওর, খাল-বিল পানিতে টইটম্বুর। এই পানিতে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু গজার,গন্যা,শোল, বাউশ, কাইলা, টেংরা, পুটি, বোয়াল, লাটি, শিং, কৈ ও মাগুর মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পোনা মাছ ছেড়েছে। এই সুবাদে জেলেরা সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে রকমারি জালের ফাঁদ পেতে হাওর -বাওড়, খাল-বিল ও নদ-নদীতে অবাধে এই সকল মাছের পোনা শিকার করে হাটবাজারে বিক্রি করছে। রসনা বিলীসী বিত্তশালীরা ক্রয় করছেন। এতে করে মাছের শারীরিক বৃদ্ধি ও বংশ বিস্তার হুমকির সম্মূখীন হয়ে পড়েছে। যদিও দেশীয় প্রজাতির  মাছের বংশ বিস্তার রক্ষায় জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক মাঝে মধ্যে উপজেলার নদ-নদী ও হাওর -বাওড়ে অভিযান পরিচালনা করে জাল জব্দ সহ জেলেদের জরিমানা করেছে। তবে উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে প্রশাসনিক মনিটরিং না থাকায় জেলেরা পোনামাছ নিধন করে হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি করছেন। এতে করে হেমন্ত মৌসুমে অত্রাঞ্চলে নিশ্চিত মাছের আকাল দেখা দিবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। ২১ শে জুলাই রোজ শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে জানাযায় ও দেখা গেছে , উপজেলা সদর জগন্নাথপুর বাজার, কলকলিয়া বাজার, চিলাউড়া বাজার, কেশবপুর বাজার, রসুলগঞ্জ বাজার ও রানীগঞ্জ বাজার সহ সবকটি ছোট-বড় হাট-বাজারে দেশী প্রজাতির পোনামাছ অবাধে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।

এ ব্যাপারে একান্ত আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমরা মৎস্যজীবি মানুষ। অভাব অনটনের সংসার চালাতে গিয়ে হাওরে মাছ ধরতে যাই। হাওরে জাল পেলে বড় মাছ পাওয়া যায়না। ছোট মাছ জালে আসে। তা নিয়েই বাজার এসেছি। বিক্রি করে পারিবারিক চাহিদা কিছুটা হলেও মেটাচ্ছি। বড় মাছের পোনা জালে ধরা পড়ায় আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। এই মাছ গুলো বড় হলে দামও বেশী পেতাম। এক প্রশ্নের জবাবে তারা আরো বলেন,  জানি পোনামাছ নিধন করায় মাছের শারীরিক বৃদ্ধি ও বংশ বিস্তার হুমকির মুখে পড়ছে। কি করব পেটের তাড়নায় এইসব মাছ ধরতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মাছ বাজারে আসা সেবুল, সমুজ, রাজন, ছুপান, আলী ও কয়েস সহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বাজারে পোনামাছ ছাড়া বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বেশী মূল্যে কিনতে হচ্ছে। তারা আরো বলেন, বিশেষ করে কটি জাল দিয়ে  এই পোনামাছ নিধনের ফলে মাছের শারীরিক বৃদ্ধি ও বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হেমন্ত মৌসুমে মাছের দেশে মাছের আকাল দেখা দিবে। তাই দেশী প্রজাতির সুস্বাদু মাছ এর শারীরিক বৃদ্ধি ও  বংশ বিস্তার রক্ষাকল্পে হাটবাজারে মনিটরিং সহ হাওর-বাওড় ও নদ-নদী অভিযান পরিচালনা করার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ এর বংশ বিস্তার রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অবশ্যই বাজার মনিটরিং করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ