জগন্নাথপুরে কাটাগাঙ্গ ব্রীজের পাটাতন খুলে ট্রাক ধাবিত, পাগলা -জগন্নাথপুর -আউশকান্দী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২৪

জগন্নাথপুরে কাটাগাঙ্গ ব্রীজের পাটাতন খুলে ট্রাক ধাবিত, পাগলা -জগন্নাথপুর -আউশকান্দী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ

 

হুমায়ূন কবীর ফরীদি ##

পাগলা -জগন্নাথপুর -আউশকান্দী আঞ্চলিক মহাসড়ক এর কাটাগাঙ্গ নদীর উপর অবস্থিত ব্রীজ এর পাটাতন খুলে ট্রাক ধাবিত হয়ে পড়েছে। এমনকি চারটি পাটাতন খুলে নদীতে পড়ে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে এই সড়ক দিয়ে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ও জানা গেছে, রাজধানী শহর ঢাকা থেকে জগন্নাথপুরগামী সিমেন্ট ভর্তি একটি ট্রাক ১৫ ই নভেম্বর রোজ শুক্রবার বেলা প্রায় ৩ ঘটিকার সময় পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দী আঞ্চলিক মহাসড়ক এর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশে ইছগাঁও নামক এলাকায় কাটাগাঙ্গ নদীর উপর অবস্থিত স্টীল ব্রীজে উঠে মধ্যখানে পৌঁছা মাত্রই ব্রীজের পাটাতন সরে গিয়ে ট্রাকটি নীচের দিকে ধেবে গিয়ে আটকে আছে। এবং ট্রাক আটকাপড়া স্থানের চারটি পাটাতন নদীতে পড়ে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে এই সড়ক দিয়ে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে অতি কষ্টের মধ্য দিয়ে যানবাহনের যাত্রী সাধারণ ও পথচারীরা মালামাল নিয়ে নৌকা যোগে নদী পারাপার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১০ টনের অধিক ওজনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপকৃত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির সাইনবোর্ড ব্রীজ এলাকায় সাঁটানো থাকলেও মালবাহী যানবাহন চালকরা সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে যানবাহন নিয়ে চলাচল করছেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর এর শামীম আহমদ, জামাল, বজলু ও রায়হান সহ সচেতন মহল তাদের অভিপ্রায় ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, র্দীঘদিন ধরে পাগলা -জগন্নাথপুর- আউশকান্দী আঞ্চলিক মহাসড়ক এর ইছগাঁও এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কাটাগাঙ্গের ব্রীজ দিয়ে ভারী ভারী অতিরিক্ত যানচলাচল করে আসছিল। এ ব্রীজের পাটাতন খুলে একাধিকবার যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। দায়সারাভাবে জোড়াতালি দিয়ে এই ব্রীজটি সচল রাখা হয়েছে । যার ফলশ্রুতিতে বারবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করছেন। সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ বলছে, নিষেজ্ঞা অমান্য করে অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে ব্রীজ পার হাওয়াতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজটি ভেঙে যাওয়া রাজধানী শহর ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জগন্নাথপুর তথা সুনামগঞ্জবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন। দৈনন্দিন কাজে জীবন জীবিকার তাগিদে এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ রাজধানী শহর ঢাকা, বিভাগীয় শহর সিলেট ও জেলা শহর সুনামগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকেন। বিধায় জনস্বার্থে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সচেতন এলাকাবাসী।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন শ্রমিক নেতা তোড়ণ মিয়া বলেন, রানীগঞ্জ সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ঢাকা আঞ্চলিক এ মহাসড়কে সবধরণের যানবাহনের চাপ বাড়ে। তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাটাগাঙ্গের পাটাতন একাধিকবার খুলে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আসছিল। একমাস আগেই পাটাতন খুলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রানহানির ঘটনাও ঘটেছে। জোড়াতালি দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার শঙ্কা আগেই ছিল। সংশ্লিষ্টদের দায়সারার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। জনস্বার্থে ব্রীজটি নতুন করে নির্মাণ এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ মোবাইল ফোনে বলেন, খবর পেয়ে সড়ক ও সেতু বিভাগের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করতে আমরা কাজ করব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ