জগন্নাথপুরে মসজিদের মুয়াজ্জিন এর উপর মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মুসল্লীদের প্রতিবাদ সভা

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৪

জগন্নাথপুরে মসজিদের মুয়াজ্জিন এর উপর মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মুসল্লীদের প্রতিবাদ সভা

হুমায়ূন কবীর ফরীদি ##

জগন্নাথপুরে মসজিদের মুয়াজ্জিন এর উপর মিথ্যা মামলা দায়ের এর প্রতিবাদে মসজিদ কমিটির আয়োজনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউপির অন্তর্ভুক্ত জগদীশপুর (পশ্চিম পাড়া) গ্রাম নিবাসী শাহীন আহমেদ এর ছেলে একই গ্রামের পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোঃ আলাল হোসেন এর উপর আরোপিত মিথ্যা মামলা দায়ের এর প্রতিবাদে জগদীশপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ কমিটির আয়োজনে শতাধিক মুসল্লীদের উপস্থিতিতে ৫ ই জুলাই বাদ জুম্মা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বক্তব্য রাখেন, জগদীশপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার ও কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ আজিজুল হক, জগদীশপুর গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী আব্দুল মছব্বির লেবু, জিলু মিয়া চৌধুরী, আব্দুল মালিক, ইব্রাহীম মিয়া ও ছমির আলী প্রমূখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিগত ২৩ শে জুন সকালে মুয়াজ্জিন আলাল হোসেন এর বাড়ীতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর পরিবার লোকজন গুরুতর আহত হন। তখন তিনি তাঁর কর্মস্থল মসজিদ এর মিনারায় ঘুমে ছিলেন। তিনি লোক মারফত খবর পেয়ে  সংঘর্ষের পর বাড়ীতে গিয়ে বিষয়টি জানেন। তিনি এই সংঘর্ষের সাথে কোনো ভাবেই জড়িত নয়। অথচ এই ঘটনায় প্রতিপক্ষ মুয়াজ্জিন আলাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলাটির ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এর জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বক্তারা।
এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ আজিজুল হক বলেন, ঘটনার সময় মুয়াজ্জিন আলাল হোসেন  মসজিদের মিনারায় ঘুমে ছিলেন। তাঁহার বাড়ীতে সংঘর্ষ হয়েছে জানতে পেরে তাকে আমি নিজে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেই। তিনি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নহে। অথচ প্রতিপক্ষ তাকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরদাবী জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বিগত ২৩ শে জুন রোজ রবিবার সকালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত জগদীশপুর গ্রামের সাধন মিয়ার খালা সারজন বেগম এর বাড়ীর সামনে তোতা মিয়ার নৌকা রাখাকে কেন্দ্র করে সাধন মিয়া ও তোতা মিয়ার লোকজন এর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০ জন আহত হন। তাৎক্ষণিক আহতদের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তমধ্যে গুরুতর আহত  তোতা মিয়া পক্ষের তোতা মিয়া(৫৫), ধন মিয়া(৫০), ও চান মিয়া(৪৮) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে  কর্তব্যরত চিকিৎসক সৃজনা সরকার তমা। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় তোতা মিয়া পক্ষের হামজা মিয়া বাদী হয়ে ২৪ শে জুন ইমান আলী ও  সাধন গংদের বিরুদ্ধে  জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে বিগত ২ রা জুলাই সাধন পক্ষের হেনী বেগম বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় তোতা মিয়া গংদের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ