জগন্নাথপুরে বিকল্প সেতুর এ্যাপ্রোচে দায়সারা সংস্কার কাজ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২৩

জগন্নাথপুরে বিকল্প সেতুর এ্যাপ্রোচে দায়সারা সংস্কার কাজ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

হুমায়ূন কবীর ফরীদি ##

জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর উপরের ডাইভারশন বেইলি সেতুর এ্যাপ্রোচে বালি ভর্তি বস্তা ও কংক্রিট ফেলে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে এই সেতু দিয়ে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। যেকোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকা করছেন জনসাধারণ।

বিগত কয়েক দিনের টানা বর্ষন আর পাহাড়ী ঢলের পানিতে গত ২ রা জুলাই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরস্থ হেলিপ্যাড এলাকার নলজুর নদীর উপর ডাইভারশন বেইলি সেতুর এপ্রোচ ও ৩ রা জুলাই এই সেতুটি পানির নীচে নিমজ্জিত হয়ে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এবং উপজেলা সদরস্থ ঝুকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করে। এতে করে দুর্ঘটনা হতে পারে এমনই সম্ভাবনাকে লক্ষ করে দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জরুরী সভার মাধ্যমে ডাকবাংলো সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ৪ ঠা জুলাই রোজ  মঙ্গলবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও বিকেলের দিক থেকে  প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যানবাহন চলাচল করে আসছে। আর নলজুর নদীর উপর ডাইভারশন বেইলি সেতুর উপর থেকে ও এ্যাপ্রোচ সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এ্যাপ্রোচ সড়কের মধ্যখান খালি রেখে দুই পার্শ্বে বালি ভর্তি বস্তা ফেলার পাশাপাশি মধ্যখানে দায়সারাভাবে ইটের কংক্রিট ফেলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে।টেকসই  সংস্কার কাজ না করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ডাইভারশন বেইলি সেতুটি। যানবাহন চলাচলের ফলে এই বেইলি সেতুর এ্যাপ্রোচ সড়ক কাঁদি-পানিতে একাকার হয়ে ফের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৭ ই জুলাই রোজ শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ও জানাযায়,নলজুর নদীর উপর  হেলিপ্যাড এলাকার ডাইভারশন বেইলি সেতুর উপর থেকে পানি নেমে গেছে। এবং এ্যপ্রোচ সড়কের পূর্ব পাড় ও পশ্চিম পাড়ে সড়কের মধ্যখানে দায়সারা ভাবে ইটের কংক্রিট ফেলা হয়েছে এবং সড়কের পার্শ্বে অপরিকল্পিত ভাবে বালি ভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। যা কোনো কাজেই আসছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কাঁদা-পানি মাড়িয়ে যানবাহনে ও পায়ে হেঁটে জনসাধারণ চলাচল করছেন আর চালকরা যানবাহন চালাচ্ছেন।ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে থেকে ঝুকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতু দিয়ে ও ডাইভারশন বেইলি সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন কাজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে ও পায়ে হেঁটে হাজার হাজার  জনসাধারণ  চলাচল করছেন। জনগণের এই ভোগান্তি স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছেন। এতে করে উপজেলাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিধায়  জনস্বার্থে এই বেইলি সেতু ও সেতুর এ্যাপ্রোচ সড়কে টেকসই সংস্কার কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন জগন্নাথপুরবাসী।

এলাকাবাসী ও এলজিইডি সুত্রে জানাযায়, এরশাদ সরকারের শাসনামলে অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের প্রাণ কেন্দ্রের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীর উপর উপজেলা খাদ্য গুদাম এর সামনে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি সরু হওয়ায় বড় দুটি যানবাহন এক সাথে চলাচল করতে না পারায়  সার্বক্ষণিক যানজটের সৃষ্টি হতো। সেতু পারা-পারের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে হতো যানবাহন -যাত্রী ও পথচারীদের। তাই যানজট নিরসনে অত্র স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ এর দাবী জানিয়ে আসছিলেন জগন্নাথপুরবাসী। যার ফলশ্রুতিতে ভুক্তভোগী উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবীর পরিপেক্ষিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি’র মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে পুরাতন এ সেতুটি ভেঙে নতুন দৃষ্টি নন্দন আর্চ সেতু নির্মাণ উদ্যেগ নেওয়া হয়। এবং জগন্নাথপুর -শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান চলতি সনের ২৬ শে মার্চ এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এর উদ্বোধন করলে নতুন  সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এবং বিকল্প হিসেবে একটি বেইলি সেতু জগন্নাথপুর পৌর শহরের হেলিপ্যাড এলাকায় নির্মাণ করা হয়।

অপর দিকে ১৯৮৮ সালে উপজেলা সদরস্থ নলজুর নদীর উপর ডাকবাংলো সেতুটি এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এর মাধ্যমে সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়। সেই থেকে সরু এ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করে আসছিল। তবে ২০২১ সালে নলজুর নদী খননকালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার সময় সেতুর মধ্য অংশ দেবে যায়।এবং প্রায় এক বছর যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পর বিগত ২৩ শে মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জগন্নাথপুর পৌর সভার উদ্যেগে সেতুর দেবে যাওয়া অংশে স্টীলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি চাল করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলার আলীর হোসেন,সাবজুল মিয়া, আনিছুর রহমান তুতি, ইমাদ উদ্দিন সহ একাধিক ব্যাক্তি একান্ত আলাপকালে তাদের অভিপ্রায় ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, দুদিন থেকে  হেলিপ্যাড এলাকার ডাইভারশন বেইলি সেতুর এ্যাপ্রোচে বালি ভর্তি বস্তা ও কংক্রিট ফেলে অপরিকল্পিত ভাবে সংস্কার কাজ করায় ফের কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পায়ে হেঁটে হাজার হাজার জনসাধারণকে দৈনন্দিন কাজে চলাচল করতে হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তারা আরো বলেন, দায়সারাভাবে সংস্কার কাজ  সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ বয়াপারে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, ভারী বর্ষন আর পাহাড়ী ঢলের পানি বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প বেইলি সেতুর সংযোগ সড়ক ও সেতুটি ডুবে গিয়েছিল এখন সেতুটির উপর থেকে পানি নেমে গেছে । জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে সংযোগ সড়কে বালির বস্তা ও কংক্রিট  ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। যানবাহন চলাচল করছে। বৃষ্টি বাদল হচ্ছে একটু কাঁদা-পানি থাকতেই পারে।  এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল আমরা বন্ধ করেছিলাম। তবে যানজট নিরসনে জনস্বার্থে  বিকাল থেকে ( ৭ জুলাই)  এই দুই সেতু দিয়ে একমূখী হয়ে অর্থাৎ পশ্চিম এলাকার যানবাহন হেলিপ্যাড এলাকার বেইলি সেতু দিয়ে ও পূর্ব পার্শ্বের যানবাহন ডাকবাংলো সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ