প্রকাশিত: ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত
ইউএস বি ডেস্কঃ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের নতুন কৌশল অবলম্বনের খবর এসেছিল আগেই। এখন একের পর এক সামনে আসতে শুরু করেছে জাহাজডুবির ঘটনা। গত কয়েক দিনে প্রণালিতে বেশ কয়েকটি নৌযান ডুবে গেছে। কোনো কোনোটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। খবরটিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দেওয়া হয়।
সামরিক বাহিনীর একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী ট্যাঙ্কারটি তার অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
আগুন লাগার কারণ কী কিংবা এর জন্য কারা দায়ী, তা তাৎক্ষণিক স্পষ্ট হয়নি। এর আগে সামনে আসা খবরে ইরানের সূত্র জানায়, হরমুজে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন তৈরি করে তেলের দাম বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী রাখা এবং এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপে ফেলার লক্ষ্য নিয়েছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাৎক্ষণিক বৃহস্পতিবারের ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল ১৫ অক্টোবর রোজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটি এখন সবচেয়ে তীব্র প্রতিকূলতার মুখে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণকে বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বিপ্লবের পর গত ৪৮ বছরে আমরা এখনকার মতো তীব্র অবরোধ, যুদ্ধ ও সংকটের মুখে কখনও পড়িনি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানিদের জীবনযাত্রা কঠিন করে তোলার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে চায় ওয়াশিংটন, যাতে দেশটিতে অস্থিরতা দেখা দেয়। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে, ‘মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলা ও তাদের দুর্ভোগ বাড়ানো, এরপর সামাজিক বিক্ষোভ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে কনটেইনার জাহাজ ও ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ডুবে যায়। সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, জাহাজগুলোতে পৃথকভাবে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) আঘাত হেনেছিল।
ওই কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় জাহাজ দুটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর বাইরেও গত ১০ দিনেও নৌপথটির আশপাশে হামলা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যায়।
রয়টার্সে প্রকাশিত খবরের তথ্য বলছে, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ডুবে যায়। এর ধারণক্ষমতা ছিল দুই হাজার ৮২৪ টিইইউ। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) গত বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলা হয়। আগুন ধরার পর সেটি ডুবে যায়। এতে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক একটি ঘটনায় অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজ ‘কেপ ডাও’ প্রণালির কাছাকাছি ডুবে গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। ওই সময় এক ক্রু নিহত হন। বাকিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
জাহাজটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই’। ডুবে যাওয়ার খবরের পর তাৎক্ষণিকভাবে তারা মন্তব্য করেনি। আইএমও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজডুবির তথ্য সংরক্ষণ করেছে। এতে জিএফএস প্রাইড ও কেপ ডাও যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজডুবির ঘটনা।
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest