প্রকাশিত: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫
যুক্তরাজ্য থেকে জামান কয়েছ##
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর আত্মজীবনী “দ্য কোয়ালিশন ইয়ার্স, ১৯৯৬-২০১২”-এর কিছু অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কিছু বিতর্কিত তথ্য তুলে ধরেছে। এই বইয়ের কিছু অংশ বাংলাদেশের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। প্রণব মুখার্জীর লেখায় বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব এবং বড় ভাই সুলভ আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা অনেক বাংলাদেশীর দীর্ঘদিনের ধারণাকেই সমর্থন করে।
বইটির কিছু অংশে প্রণব মুখার্জী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন, যা অনেক দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীর কাছে অস্বস্তিকর। তবে, যারা বাংলাদেশকে ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান, তারা ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রণব মুখার্জীর ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞ থাকবেন।
বইয়ের দ্বিতীয় অংশে প্রণব মুখার্জী ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান মইন ইউ আহমেদের ভারত সফরের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী ছিলেন। তিনি জেনারেল মইনের সাথে আলোচনার সময় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন। এছাড়াও, হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেনারেল মইনের নিরাপত্তা নিয়ে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়ণনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে ভারতের ধারাবাহিক যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রণব মুখার্জী আরও লিখেছেন যে হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর জেনারেল মইনকে স্বপদে বহাল রাখার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনকি, হাসিনা যখন কারাগারে ছিলেন, তখন যে আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে ত্যাগ করেছিলেন, তাদের তিনি তিরস্কার করেছিলেন। লেখকের মতে, প্রণব মুখার্জীর এই অকপট স্বীকারোক্তি এটাই প্রমাণ করে যে তিনি একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ হয়েও নিয়মিত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেন এবং ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করতেন।
এখানে ডঃ কামাল সিদ্দিকীর একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৬ সালে দিল্লিতে দুই প্রধানমন্ত্রীর একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছিলেন এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছিলেন (সম্ভবত সেটা দশ ট্রাক অস্ত্র বিষয়ে) ।
শুধু প্রণব মুখার্জী নন, ভারতের অনেক নেতাই বাংলাদেশে তাদের পছন্দের সরকারকে ক্ষমতায় দেখার জন্য আগ্রহী। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অংশ তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে। লেখক মনে করেন, মরারজি দেশাই, ভিপি সিং এবং আই কে গুজরাল ছাড়া প্রায় সকল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীই বাংলাদেশের ব্যাপারে খবরদারি করেছেন। প্রণব মুখার্জীর আচরণ এবং তার বইয়ের অংশগুলো ভারতের বাংলাদেশ নীতির একটি ছোট উদাহরণ মাত্র, যেখানে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে না দেখে একটি ভারতীয় স্যাটেলাইট হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রণব মুখার্জীর এই খবরদারিপূর্ণ মানসিকতা যেমন হতাশাজনক, তেমনই জেনারেল মইনকে তার কথিত সহযোগিতা এবং হাসিনা কারাগারে থাকাকালীন তাকে ত্যাগকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের তিরস্কারের কথাও আপত্তিকর। এখানে প্রণব মুখার্জীকে ব্যতিক্রম ভাবার কোনো কারণ নেই। নরেন্দ্র মোদী বা সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ নীতিও ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও কম। সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আসতে চাপ সৃষ্টি করা এবং জামাত বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা একটি ভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় অতিথির কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটা কুটনৈতিক সম্পর্কে শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে ২০০৮ সালের নির্বাচন এবং তৎপরবরতী তিনটি নির্বাচনে শুধুমাত্র ভারতের এবং আওয়ামীলীগের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, এখানে দেশের মানুষের কোনো পরোয়া কেউ করে নি, কারণ তাদের ভোটের প্রয়োজন ছিল না, প্রয়োজন ছিল শুধু ক্ষমতা আর সেই ক্ষমতার লোভ আজ তাদেরকে দেশ থেকে পালিয়ে তাদের আসল গন্তব্য ভারত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।
লেখকঃ-
জামান কায়েছ, বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য ।
২২.০৯.২০২৫ইং
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest