প্রকাশিত: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫
পুরান মুকাম পাড়া যেখানে মুকুন্দ চৌধুরী ইসলামের দায়ীদের সান্নিধ্যে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ছবি সংগৃহীত
লন্ডন থেকে জামান কয়েছঃ সম্প্রতি ‘বাংলা টাইমস’- ও স্বদেশ বিদেশ- এ প্রকাশিত ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ইংরেজি সনের মতিয়ার চৌধুরীর লেখা ইতিহাস সাক্ষী হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আগনা পরগনার “ মুকুন্দ ঠাকুর চৌধুরী ও শেখ শাহ ময়মুনা বিবি‘র ভালবাসার গল্প” শীর্ষক প্রবন্ধটি নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি সাহিত্যিক মতপার্থক্য নয়, বরং ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃতি ও একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সম্মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগের জন্ম দিয়েছে। লেখকের এই লেখা মুকুন্দ চৌধুরীর বংশধরদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং তাঁদের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নিচে সেই প্রতিবাদের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
লেখক মতিয়ার চৌধুরী তাঁর প্রবন্ধে মুকুন্দ চৌধুরীকে একজন সাধারণ কবিরাজ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা তার প্রকৃত পরিচয় থেকে যোজন যোজন দূরে। মুকুন্দ চৌধুরী ছিলেন এক অভিজাত ব্রাহ্মণ পরিবারের সুযোগ্য সন্তান, যেখানে জ্ঞান ও ঐতিহ্য ছিল তাদের পরিচয়ের মূল ভিত্তি। তিনি শুধু একজন প্রাজ্ঞ পণ্ডিতই ছিলেন না, বরং সংস্কৃত ও আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। তার পিতা ছিলেন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি শ্রীমান ধীরেন্দ্র ঠাকুর চৌধুরী। এই পরিবার নবীগঞ্জের ৮ নম্বর আগনা পরগণার অন্যতম প্রভাবশালী জমিদার হিসেবে পরিচিত ছিল, যারা সুলতানি আমল থেকে ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে বিশাল ভূ-সম্পত্তি লাভ করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক সত্যকে এড়িয়ে গিয়ে মুকুন্দ চৌধুরীর মতো একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে হেয় করা কেবল অসত্য নয়, বরং ইতিহাসের প্রতি চরম অবজ্ঞা।
লেখক মুকুন্দ চৌধুরী ও ময়মুনা বিবির তথাকথিত প্রেমকাহিনিকে পারিবারিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অথচ বাস্তবিক অর্থে মুকুন্দ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম ছিল ময়ীদেবী বড়াল, যিনি পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ময়মুনা বিবি নামে পরিচিত হন। তাদের তিন সন্তান—তাজমন্ত চৌধুরী, রাজমন্ত চৌধুরী এবং পরীমন্ত চৌধুরীরাণী, যারা পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর তাজ মুহাম্মদ চৌধুরী, রাজা মুহাম্মদ চৌধুরী এবং পরীজান বিবি চৌধুরীরাণী নামে পরিচিত হন। লেখকের এই কাল্পনিক প্রেমকাহিনি রচনা করা হয়েছে মনগড়া গাল গল্প দিয়ে পরিবারের কোনো সদস্যের সাথে যোগাযোগ না করে এবং তাদের অনুমতি না নিয়েই, যা ঐতিহাসিক সত্য এবং পারিবারিক মর্যাদাকে সরাসরি আঘাত করেছে!
মুকুন্দ চৌধুরীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ – পারিবারিক সূত্রমতে, মুকুন্দ চৌধুরী ৭৪৪ থেকে ৭৪৫ বাংলা সময়কালে এনায়েতগঞ্জের পুরান মোকামের ইসলামিক দায়ীদের সংস্পর্শে আসেন, অতঃপর ইসলামের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং এক গভীর আকর্ষণ অনুভব করে শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেন। পাশাপাশি কথিত আছে যে,মখাই দীঘি খননের সময় এক অলৌকিক ঘটনার পর তিনি সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
মুকুন্দ চৌধুরী যখন মুসলমান হন, তখনও জমিদারি প্রতা বিলুপ্ত হয়নি এবং তার বিশাল জমিদারী বিদ্যমান ছিল পরিবারের বিশাল ভূসম্পত্তি ছিল, যার মধ্যে কাঁকড়াহালির পূর্বপাড় থেকে এনায়েতগঞ্জের ভারাট ঠাকুরের বাড়ি পর্যন্ত সমস্ত জমি ছিল মুকুন্দ চৌধুরীর পরিবারের একক মালিকানায়। মুসলিম পরবর্তী সময়ে তিনি খইলার পুর মাঠের উত্তরে উঁচু জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন, যা আজও লামনীড় পাড়ের পুরাতন বাড়ি নামে পরিচিত এবং (যেটি বর্তমানে তার বংশের লোকজন পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যাবহার করছেন)পরবর্তীতে বংশ বৃদ্ধির কারনে, মাঝের হাটি, নয়া বাড়ি ও কোনা বাড়ি নামে বাড়ি নির্মিত হয়। যেখানে তার পরবর্তী প্রজন্মের বংশধরেরা আজও বসবাস করছেন। লেখক এসব গুরুত্বপূর্ণ বাড়ি-ঘরের কোনো উল্লেখ করেননি। প্রশ্ন হলো, কেন তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে গেলেন? এই তথ্যগুলো তাদের বংশের সমৃদ্ধি ও বিস্তারের প্রমাণ।
লামনীড় পাড়ের একাধিক চৌধুরী পরিবার থাকার যে দাবী লেখক করেছেন তা সম্পুর্ণ ভূল!
লামনীড় পাড় মূলত আগনা ও মধ্যসমতের একটি অংশ, এখানকার একমাত্র প্রাচীন সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারের প্রধান ছিলেন শ্রীমান ধীরেন্দ্র ঠাকুর চৌধুরী পরবর্তীতে সময়ের প্রবর্তনে শ্রীমান ধীরেন্দ্র ঠাকুরের বংশ বিস্তার হতে থাকে। যথাঃ মুকুন্দ ঠাকুর চৌধুরী এবং এই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন উদয় চৌধুরী, তপ্ত চৌধুরী, বল্লভ চৌধুরী, প্রভাত চৌধুরী, মাকন চৌধুরী, আকাশ চৌধুরী, সুধাবাবু চৌধুরী, চন্দ্রশেখর চৌধুরী (এডভোকেট) এবং অবনিকান্ত চৌধুরী( প্রধান শিক্ষক দি এইডেড স্কুল সিলেট) তন্মধ্যে মুকুন্দ ঠাকুর চৌধুরী ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং মুসলিম পরবর্তী সময়ে শাহ নেওয়াজ চৌধুরী নাম ধারন করেন এই বংশের পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মরহুম আরজদ চৌধুরী যিনি তৎকালীন হবিগঞ্জ মহকুমার ১৭ নম্বর সার্কেলের ১৯৪০ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত একাধারে ৩ বারের সরপঞ্জ চিলেন (যা বর্তমান চেয়ারম্যান এর ন্যায়) এবং এই বংশের আরও বেশ কিছু উল্যেখযোগ্য ব্যাক্তিবর্গের নাম নিচে দেয়া হল যাতে করে পাঠকগন সত্য ও বাস্তবিকতা অনুধাবন করতে পারেন!
★মরহুম মাওলানা ওয়াছিফুর রহমান চৌধুরী যিনি এলাকায় লামনীড় পাড়ের মৌলভী সাব নামেই সমাদৃত ছিলেন)
★মুন্সি মরহুম আতাউর রহমান চৌধুরী সালিশ (বিচারক)
★মরহুম নজির মিয়া চৌধুরী ( যিনি ছিলেন মধ্যসমত গ্রামের প্রাচীন মসজিদের প্রথম মোতওয়াল্লী এবং সভাপতি আগনা ক্রিস্টান মিশনারী জুনিয়র হাই স্কুল)
★ মরহুম আরফান মিয়া চৌধুরী (ডাক্তার সরকারী টিকাদান কর্মসূচি)
★মরহুম মিয়াধন মিয়া চৌধুরী (বিশিষ্ট দানশীল ব্যাক্তিত্য)
★মরহুম সত্তার মিয়া চৌধুরী (বিশিষ্ট দানশীল ব্যাক্তিত্য
★মরহুম কবির মিয়া চৌধুরী (সারেং)
★মরহুম সাজন মিয়া চৌধুরী (সালিশ ব্যাক্তিত্য)
★মরহুম মধু মিয়া চৌধুরী (মরমী সাধক ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক)
★মরহুম ক্বারী শমুজুর রহমান চৌধুরী
★মরহুম ছোয়াব মিয়া চৌধুরী (ডাক্তার সরকারি টিকাদান কর্মসূচি)
★মরহুম ছাত্তার মিয়া চৌধুরী (সাবেক ইউপি সদস্য ও শিক্ষক আগনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়)
★মরহুম তাহির মিয়া চৌধুরী (সাবেক ইউপি সদস্য ও জনপ্রিয় সালিশ ব্যাক্তিত্য)
★মোহাম্মাদ খছরুজ্জামান চৌধুরী খরছু মিয়া(সাবেক ইউপি সদস্য এবং সালিশ ব্যাক্তিত্য ও আমীন)
★মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরী মাতু মিয়া (এসিস্ট্যান্ট শিক্ষক ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও বুরুংগা উচ্চ বিদ্যালয় উসমানী নগর সিলেট )
★মরহুম আনোয়ার ইসলাম চৌধুরী জিতু মিয়া (বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও সত্ত্বাদীকারী চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ)
★আলহাজ্ব কাছন মিয়া চৌধুরী (দানশীল ব্যাক্তিত্য)
★মরহুম ফরহাদ মিয়া চৌধুরী (হোমিও চিকিৎসক)
★ক্বারী মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী (শিক্ষক কাজীগঞ্জ বাজার দাখিল মাদ্রাসা)
★ক্বারী মাহমুদুর রহমান চৌধুরী
★ গয়াছ মিয়া চৌধুরী (সাবেক শিক্ষক ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়)
★আনছার মিয়া চৌধুরী সাবেক শিক্ষক পল্লবী উচ্চ বিদ্যালয় কাতিয়া)
★মোহাম্মাদ ছানাউর রহমান চৌধুরী এম.এস.এস (সাবেক শিক্ষক ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও অফিসার জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ড শেভরন সিলেট বাংলাদেশ লিঃ
★হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুহাম্মাদ কামরুল হাসান চৌধুরী
★ক্বারী মাওলানা ফখরুল হাসান চৌধুরী (কামিল মাস্টার্স)
★ক্বারী মাওলানা ফয়জুল হক চৌধুরী (কামিল/মাস্টার্স সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা)
বিঃ দ্রঃ একজন লেখক বা সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব হলো সত্যের প্রতি অবিচল থাকা। কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র বা পরিবার নিয়ে কাজ করার সময় তথ্য যাচাই-বাছাই করা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অপরিহার্য। জনাব মতিয়ার চৌধুরী এই মৌলিক নৈতিকতার প্রতি কোনো সম্মান দেখাননি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক! সৃজনশীলতা আর কল্পনার অবাধ বিচরণ তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা কোনো বাস্তব চরিত্রের সম্মানহানি না করে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে কোনো লেখক বা সাংবাদিক এমন গুরুতর ভুল করার আগে আরও সতর্ক হবেন এবং ইতিহাসের প্রতি তাঁদের দায়িত্বশীলতা বজায় রাখবেন।
লেখক ও কবি- জামান কায়েছ, লন্ডন । তারিখ-০৩.০৯.২০২৫ইং
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest