মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্স কমিটির বিশেষ সভা

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্স কমিটির বিশেষ সভা

 

সাহেদুর রহমান,  জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে মানবপাচার, পুশইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ), মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে টাস্কফোর্স কমিটির এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন জৈন্তাপুরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায়।

সভা সঞ্চালনা করেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর (১৯)বিওপির কমান্ডার সিকান্দার আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেটের ইন্সপেক্টর চান মিয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, ৩নং চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম, ৪নং দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, ৫নং ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমেদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল, সাবেক সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমেদ রাজু, জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইমাম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি এম. এম. রুহেল,জৈন্তাপুর রিপোর্টার ক্লাবের সভাপতি শাহেদ আহমেদ সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

পাশাপাশি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নারী ও পুরুষ ইউপি সদস্য এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রতিটি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য, একজন সাধারণ ইউপি সদস্য এবং একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নিজ নিজ এলাকার মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, আগামী শুক্রবার উপজেলার প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালানের ভয়াবহতা সম্পর্কে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ এসব অপরাধ সম্পর্কে আরও সচেতন হন।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা মানবপাচার, পুশইন ও চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ, জনমত গঠন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদমাধ্যমের কার্যকর অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুনন্দা রায় বলেন, “সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুরকে মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালানমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগ, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

“সভা শেষে মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ