দিরাই উপজেলার ধূলা-বালি ও কাদা-মাটিতেই আমি বড় হয়েছি – সজিব রশিদ চৌধুরী

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬

দিরাই উপজেলার ধূলা-বালি ও কাদা-মাটিতেই আমি বড় হয়েছি – সজিব রশিদ চৌধুরী

 

মোঃ আশরাফ উদ্দিন,  দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আসন্ন দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও দিরাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজিব রশিদ চৌধুরী। একটানা (প্রায়) ৩০ বছর রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে ওয়ার্ড ইউনিয়নের নেতাকর্মীর কাছে তাঁর গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে চোঁখে পরার মতো।

অনুসন্ধানে জানাযায়, সজিব রশিদ চৌধুরী ১৯৯৭ সালে দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে স্থানীয় অডিটরিয়াম হলে এসএসসি সংবর্ধনা কালে ছাত্রদলে যোগদান করেন। দিরাই সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দিরাই পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সজিব রশিদ চৌধুরী’র দিরাইয়ের রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সামাজিক অঙ্গনে রয়েছে প্রসংশনীয় মেলোবন্ধন। সাংবাদিক, শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যাবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ হিন্দু-মুসলিম সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে তাঁর রয়েছে গভীর সম্প্রীতি।
আসন্ন দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সজিব রশিদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামে আমি আপনাদের সাথে কাটিয়েছি (প্রায়) ৩০ টি বছর। চষে বেড়িয়েছি শহর থেকে গ্রামাঞ্চল, দিরাই উপজেলার ধুলা-বালি, কাদা-মাটিতেই আমি বড় হয়েছি।
এই অঞ্চলের রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে আপনারাই (ছাত্র-যুবক) আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমরন আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আমি আপনাদেরই একজন। আপনারা (জনগণ) চাইলে আমি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে আপনাদের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতেই মাঠে নামবো।
ইতিমধ্যে ওয়ার্ড ইউনিয়নের জনগণের সাথে আমার যথেষ্ট পরিমাণ যোগাযোগ রয়েছে। নির্বাচন সময়ের ব্যাপার।
তিনি বলেন দিরাই উপজেলার জনগণ আমাকে যদি নির্বাচিত করে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, তরুণ সমাজকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন। নাগরিক সেবাকে সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা, সড়ক উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মাদক মুক্ত যুবসমাজসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে গতিশীল করবো।
তিনি আরোও বলেন, উপজেলাবাসী’র মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও সেবামুখী দিরাই উপজেলা গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি সৎ, নির্ভীক, ন্যায়-নীতিবান, সমাজসেবী ও কর্মীবান্ধব- দিরাই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। সম্প্রতি, রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করেন সবসময়। উল্লেখ্য ১/১১ থেকে দীর্ঘ ২০ বছর তিনি গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নেতৃত্ত্ব দিয়েছেন, করোনা-বন‍্যাসহ সকল প্রকার দুর্যোগে এবং দলের ক্লান্তিলগ্নে নির্যাতিত নেতাকর্মীর সাথে সবসময় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। একটানা ২ যুগেরও বেশী দলের জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ে নেতৃত্ত্বে থাকার কারণে তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীর সাথে তাঁর রয়েছে সাংগঠনিক সম্পর্ক।
দীর্ঘ এই সংগ্রামে বিভিন্ন সময় নির্যাতন-দমনপীড়ন, হামলা-মামলার স্বীকার হয়েছেন সজিব রশিদ চৌধুরী।
২০১৫ সালে দিরাইয়ে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধে গাড়ী ভাংচুর কে কেন্দ্র করে তৎকালীন দিরাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সজিব রশিদ চৌধুরী ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন। হামলার ১ ঘন্টা পরেই বাকশালি পুলিশ তাঁর বাসা তল্লাশী করে অল্পের জন্য তিনি গ্রেফতার থেকে বেঁচে যান। তাঁকে না পেয়ে পুলিশ বাসার জিনিসপত্র ভাংচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে অশ্লীল আচরণ করে। এই ভাংচুরের ঘটনায় সজিব রশিদ চৌধুরীসহ বিএনপি’র ৫১ জন কে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

জানাযায়, দলের দুর্দিনে তিনি নির্যাতিত নেতাকর্মীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবসময় খুঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি দিরাই সম্মেলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী চ্যারেটি অর্গানাইজেশন সিলেট মঞ্চ নাগরিক সেবা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও (বৃহত্তর সিলেট বিভাগ) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দিরাই উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ