জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যার আশংকা

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৬

জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যার আশংকা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

অবিরাম বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলের পানিতে জগন্নাথপুর এর কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী প্রায় ১৫ টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন ও ১টি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জনমনে বন্যা আতংক বিরাজ করছে।
বিগত ৭ ই জুলাই দিবাগত রাত থেকে অবিরাম ভাড়ী বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধ এর বাইরে থাকা উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী পাইলাঁও, রানীনগর ও রানীগঞ্জ বাজার সহ শতাধিক বসত বাড়ীতে পানি উঠে পড়ার পাশাপাশি বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এবং ১০ ই জুলাই রোজ শুক্রবার পাইলগাঁও ইউনিয়ন এর পূর্ব জালালপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, নতুন কসবা, কাতিয়া আলাগদি ও কদরপাড়াসহ প্রায় ২০টি গ্রাম এলাকায় পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে ।এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়াও জালালপুর ও পুরাতনআলাগদি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলমান ভারী বর্ষণ আর ঢলের পানিতে যেকোনো মুহূর্তে এই বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধ এর বাইরে থাকা স্কুল সহ শতাধিক বসতবাড়ীতে পানি উঠেছে। রাস্তা-ঘাট ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। রানীগঞ্জ বাজারে এখন হাঁটু পানি। প্রতিবছরই কুশিয়ারার পানিতে বাজারের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ ব্যাপারে পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজমুদ্দিন বলেন, কুশিয়ারার পানি বেড়ে জগন্নাথপুর—বেগমপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাংলা বাজার স্কুল ও রানীগঞ্জ বাজার সহ গ্রামীণ সড়ক এবং নিম্নাঞ্চলের কয়েক এলাকায় পানি উঠেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম বলেন, এই বিদ্যালয়টিতে পানি উঠে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে পাঠদান চলছে, বিষয়টি জেলা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সহ তিন জনকে দায়িত্ব দিয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ