প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
ইউএস বাংলা বার্তা ডেস্কঃ
দুই আজন্ম শত্রু-ভারত ও চীন। সীমান্তে রক্তক্ষয় আর অবিশ্বাসের দীর্ঘ ইতিহাস পেরিয়ে হঠাৎ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে দুই দেশ। পাঁচ বছর আগেও সীমান্ত সংঘাতে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। কিন্তু আজ তারা নিজেদের মধ্যে শান্তি ফেরাতে ব্যস্ত। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরোপিত বাধা তুলে নেওয়া, ব্যবসা ও পর্যটনে সুবিধার জন্য ভিসা সহজ করা, আবারও দু’দেশের সরাসরি ফ্লাইট চালু করা, সেই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ধুম-সবমিলিয়ে পুরোনো সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা চলছে পুরোদমে। হঠাৎ পরিবর্তনও কিন্তু এক প্রকার দায় ঠেকেই! এর পেছনে রয়েছে বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের মারমুখী শুল্ক। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এ যেন ‘কলেরা দিনের প্রেম’। অর্থাৎ মহামারির মতো ভয়াবহ বৈশ্বিক সংকট-মার্কিন শুল্ক আর অর্থনৈতিক চাপের ভেতর জন্ম নেওয়া এক কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা। যেখানে আস্থা কম, প্রয়োজন বেশি। তবে এই হঠাৎ গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব কী সত্যিই দীর্ঘস্থায়ী হবে, নাকি সাময়িক আশ্রয় তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে কূটনৈতিক মহলে। এপি, সিএনএন।
দীর্ঘ সাত বছর পর শনিবার চীনে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চীনের তিয়ানজিনে রোববার সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মোদিসহ আরও ২০টিরও বেশি দেশের নেতারা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে যোগ দিতে মুখিয়ে থাকা মোদি একদিন আগেই তিয়ানজিনে পৌঁছান। অধীর আগ্রহে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। এই ঘনিষ্ঠতার মূল কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকাশচুম্বি শুল্কনীতি। ক্ষমতার দম্ভে কাউকেই ছাড় দেননি তিনি। চীনের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। নভেম্বরে আলোচনায় ব্যর্থ হলে বেড়ে ১৪৫ শতাংশেও পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ভারতও ৫০ শতাংশ শুল্কের চাপে দিশেহারা। ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশটির লাখ লাখ কর্মসংস্থান। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে দাঁড়াল চীন। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের ভারতের প্রতি দমননীতির নিন্দা জানিয়ে ঘোষণা করেছেন-সব ধরনের ভারতীয় পণ্যকে চীনা বাজারে স্বাগত। অর্থাৎ বিপদে পড়ে শত্রুর গলায় মালা। পালটা উদারতায় দ্রুতগতিতে চীনা বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে ভারতও। যা গত পাঁচ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবারও ফিরে এসেছে পুরোনো সেই ‘চিন্দিয়া’ (চীন-ভারত বন্ধুত্ব) ভাবধারা। এই মধুর ভাবাবেগটি ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভেঙে গিয়েছিল। সেই থেকে আজও দুই প্রতিপক্ষের সম্পর্কে সন্দেহ ও বৈপরীত্য রয়ে গেছে। তবুও একে অপরের দিকেই সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে নিরুপায় দুই প্রতিদ্বন্দ্বি। এসসিও সম্মেলন শেষ হওয়ার পর বুধবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিজয় দিবস-এর বিশাল সামরিক কুচ্কাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও অংশ নেবেন মোদি।
ইতিহাসের ক্ষতচিহ্ন : ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধে ভারতের পরাজয় এখনো তার নীতি-প্রবাহকে প্রভাবিত করে। দু’দেশ সীমান্ত শান্ত রাখতে চাইলেও ঐতিহাসিক ক্ষত রয়ে গেছে এখনো। বাণিজ্য বাড়লেও সীমান্ত সংঘাত, পাকিস্তান ইস্যু ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস গভীর করেছে। এছাড়া ভারত যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকলে, চীন লাদাখ সীমান্তে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে। ফলে সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন শুরু হয়। তবে অবশেষে এই সম্পর্কের ইতি টানছে চীন-ভারত।
অর্থনৈতিক নির্ভরতা : ভারত-চীন বাণিজ্য এখন ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু এর মধ্যে ভারতের ঘাটতি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। ভারত চীনের বাজারে প্রবেশ চায়। প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, সার ও ওষুধ-প্রায় সবকিছুর জন্য ভারত এখন চীনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অনেকেই বলছেন, সম্পর্কের উন্নয়ন হোক বা না হোক বাণিজ্যিকভাবে চীনই নেতৃত্ব দিচ্ছে। সুত্রঃ যুগান্তর. কম
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest