ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের নিহতদের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী, খোঁজ-খবর নিলেন সংসদ সদস্যগণ

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের নিহতদের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী, খোঁজ-খবর নিলেন সংসদ সদস্যগণ

 

হুমায়ূন কবীর ফরীদি##

লিবিয়া থেকে গ্রীস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মানবিক বিপর্যয়ে নিহত জগন্নাথপুরের ৫ জন সহ সুনামগঞ্জের ১২ জন এর পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবং খোঁজ -খবর নিয়েছেন সংসদ সদস্য মিলন, কয়ছর ও কামরুল।
সম্প্রতি মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে প্লাস্টিকের বোট যোগে গ্রীস যাওয়ার পথে খাদ্য সহ বিভিন্ন মানবিক বিপর্যয়ে পড়ে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১২ জন নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নির্দেশনায় ৫ই এপ্রিল বাড়ী বাড়ী গিয়ে এই নিহতদের পরিবারের লোকজন এর খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর পক্ষ হতে শোকসন্তপ্ত পরিবার হাতে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন, সুনামগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ এবং সুনামগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাড. আব্দুল হক,সদস্য এম এ মুকিত, জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১ম যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক হাজী আব্দুস সোবহান, জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবুল হাসিম ডালিম, সদস্য আল আমিন, জগন্নাথপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নুরুল আমীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান মিজান, জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মামুনুর রশীদ মামুন, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক জুনাইদ আহমেদ জুনেদ, জগন্নাথপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারজান চৌধুরী, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নিহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্যরা বলেন, ঘটনার খবর শুনেই প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং পাশে থাকতে। তাঁহরা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, এই নিহতের ঘটনায় যে দালালদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন পাশাপাশি চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। উনারা উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আরো বলেন, দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে কেউ যেন অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না এবং জীবন মরনের ঝুঁকি নেবেন না। আমাদের বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছে, ৫ বছরের মধ্যে ১ কোটি মানুষকে বিদেশে পাঠানো হবে। সেই কার্যক্রম ইতিমধ্যে দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। ধৈর্য ধরুন, সরকার জি-টু-জি পদ্ধতিতে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, বিগত ২১ মার্চ মোট ৪৫ জন অভিবাসী নিয়ে একটি প্লাস্টিকের বোট লিবিয়া থেকে ইউরোপের গ্রীসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তাদের মধ্যে ৩৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি। আর বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩৬ জন সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা। দুঃখজনকভাবে, এই যাত্রাপথে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়ে ২২ জন ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। তমধ্যে সিলেট অঞ্চলের ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এই ১৮ জনের মধ্যে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতেদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে এবং এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজমান।
এদিকে এই যাত্রায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ২৮ মার্চ গ্রীসে একটি শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছেছেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। লাশ গুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে আরো জানাযায়, ইউরোপের গ্রিস যাওয়ার জন্য জগন্নাথপুর, দিরাই ও ছাতক উপজেলার বাসিন্দা দালাল চক্রের সঙ্গে প্রত্যেককে ১২ লাখ টাকা করে চুক্তি করে ৩/৪ মাস পূর্বে তাঁরা লিবিয়ায় যান। সেখান থেকে গত ৬-৭ দিন পূর্বে রাবার বোটে গ্রিসের উদেশ্যে সাগরপথে যাত্রা করে অভিবাসীরা। (বোটের যাত্রা লোকজনের কাছে ‘গেম’ হিসেবে পরিচিত)। বোটে খাবার ও পানির সংকটের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ২২ জন মারা যান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ