প্রকাশিত: ১১:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেছেন, যার জাল তার যেন জলা থাকে এবং সে যেন দেশের সম্পদ নির্বিঘ্নে বিক্রি করতে পারে সেজন্য এই কর্মশালা। মধ্যসত্ত্বভোগীদের কারণে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা শোষিত হচ্ছে। মধ্যসত্ত্বভোগীরা দেশের বাইরে, ঢাকা অথবা সিলেটে বসে আপনাদের (মৎস্যজীবী) নাম ভাঙিয়ে কিছু করুক আমরা চাই না।
শিঘ্রই আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করব উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের কৃষকরা দেশের ৮ ভাগের এক ভাগ ধান উৎপাদন করেন। কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখেছি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জমির ধান অতিবৃষ্টিতে তলিয়েছে, যা নিয়ে সম্প্রতি নতুন দুঃশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়েছে। হাওরে পানি নিষ্কাশনে কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে এটি শুরু হয়। তখন যে মাননীয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তিনি হাওরের সন্তান বলতেন, আমরা খুশি হতাম। কিন্তু সেই এলাকার আরেক উচ্চ পদস্থ, ভাতের হোটেল নামে পরিচিত হারুন, এদের কারণে এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট করে, যে রাস্তা গুলো করা হয়েছিলো, সেখানে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিলো না। এখন ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সেজন্য আমরা এর সংকট, সম্ভাবতা আবার দেখছি- কিভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়।
৪ এপ্রিল রোজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তিনি ‘সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬’ শীর্ষক প্রক্রিয়াধীন আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের লক্ষে মাঠ পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে আয়োজিত কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় রাজধানী ঢাকা থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থা বেলা, টিআইবি সহ উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে মতামত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুয়াত্তরে দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো। এটি ছিলো অযোগ্যতা এবং কিছু ব্যক্তির পরিকল্পিত। গবির জনসাধারণের খাবার বাইরের দেশে পাচার করে দিয়ে এই দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছিলো। আমরা খুবই সর্তক। প্রথমেই আমাদের খাদ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি আরও বলেন, এই দেশ আমাদের সবার, আমরা সবাই মিলিতভাবে থাকব। অতি উগ্রবাদিতার মধ্যে দিয়ে দেশে কেউ যেন কিছু করার সুযোগ না পায় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ এই মাটি ও এই দেশ আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলেছি।
তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগরে ডুবে সুনামসগঞ্জের ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমপিদের নিহতদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুতের কারণে হাওরে ধানের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারবে না। প্রয়োজনে আমাদের বাড়ির বিদ্যুত সঞ্চালন বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু কৃষকের উৎপাদন নিশ্চিতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা সততা নিষ্ঠার সঙ্গে দেশপ্রেম ধারণ করে সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য দেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এসময় তিনি মন্ত্রী মরমি সাধক হাসন রাজা, রাধারমণ, শাহ্ আবদুল করিম, দুর্বিণশাহ্- এর সুনামগঞ্জে এসে এই কর্মশালা করতে পেরে আত্মতৃপ্তির কথা জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ’র সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল সহ মৎস্যজীবীরা।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক – তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু
বার্তা সম্পাদক- হুমায়ূন কবীর ফরীদি
বাংলাদেশ কার্যালয়- কলকলিয়া বাজার, জগন্নাথপুর, সুনামগন্জ।
প্রধান কার্যালয়- ৮২৪ মেইন স্রীট, মেনচেষ্টার, কানেকটিকাট- ০৬০৪০, যুক্তরাষ্ট্র।
ফোনঃ ০১৭১৭৯৩১৬৫৮(বিডি) +১৮৬০৭৯৬৭৮৮৮(ইউএসএ)
ইমেইলঃ usbanglabarta@gmail.com
Design and Developed by Web Nest