সুনামগঞ্জে বেড়িবাঁধ নিয়ে সংঘর্ষ,১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

সুনামগঞ্জে বেড়িবাঁধ নিয়ে সংঘর্ষ,১৪৪ ধারা জারি

 

ছবি সংগৃহীত

ইউএস বি ডেস্কঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কাটা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। ৪ এপ্রিল রোজ শনিবার দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই হাওরে ফসল চাষাবাদ করেন মোহনপুর ও কাঠইড় ইউনিয়নের কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ নিয়ে গেল দুইদিন হয় দুই ইউনিয়নের চার গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ডাকুয়ার হাওরে মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর, শান্তিপুর ও সর্দারপুর গ্রামবাসীর জমি রয়েছে। অপরদিকে পাশের ছনুয়ার হাওরে কাঠইড় ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, গোলেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুলু গ্রামের কৃষকরা জমি চাষাবাদ করেন। এই দুই হাওরের মাঝখানে ফসলরক্ষা বেঁরি বাঁধ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। ছনুয়ার হাওর অপেক্ষাকৃত উজানে (উঁচুতে) ডাকুয়ার নীঁচু এলাকায়। ছনুয়ায় ৩১০ হেক্টর জমি, ডাকুয়ায় ৪২০ হেক্টর। গেল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ছনুয়ার হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে বাঁধ কেটে পানি ছাড়তে চান কাঠইড়ের তিন গ্রামের কৃষকরা। তাতে মোহনপুর, শান্তিপুর ও সর্দারপুরের কৃষকরা বাঁধা দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলের মতামত না নিয়ে বাঁধ কাটতে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু কাঠইড় ইউনিয়নের তিন গ্রামের লোকজন বাধা না মেনে বাঁধ কাটতে শুরু করে। এসময় মোহনপুরের জমায়েত অপেক্ষাকৃত কম থাকায় বাঁধ কেটে দেয় কাঠইড়ের লোকজন। খবর পেয়ে মোহনপুরের অন্যান্য লোকজন সেখানে গেলে দুইপক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় উভয়পক্ষের কমপক্ষে  ২০ জন আহত হয়েছেন।  এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাঁধের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। চোখের সামনে হাওর ডুবে যাওয়ায় মোহনপুর, শান্তিপুর, সরদারপুর গ্রামের কৃষকরা হাহাকার করছেন। তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পাউবোর দায়িত্বশীলরা জানান, শনিবার সকালে মোহনপুর গ্রামের কৃষক এবং নোয়াগাঁও, গোলেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুল এলাকার কৃষকদের নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার চন্দ বাঁধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি সভায় বসেন। তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। অন্যদিকে, একই সময়ে কয়েকশ লোকজন জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে জোরপূর্বক ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কেটে দেন।
খবর পেয়ে মোহনপুর গ্রামের লোকজন গিয়ে বাধা দেওয়ায় দুইপক্ষে সংঘর্ষ হয়। এসময় মোহনপুর গ্রামের আলী, আফিজ, সুকুর আলী, আজিজুল, জাহাঙ্গীর, নোয়াগাঁও গ্রামের ইমাম হোসেন,  জসিম উদ্দিন, রূপা মিয়া, উজ্জ্বল, ফজলু মিয়া, সৈয়দ মিয়া, এমদাদ মিয়াসহ উভয় এলাকার অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সন্ধ্যায় মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের তাদের হাওরের ফসল ডুবে যাবার বিষয়টি অবগত করেন।
মোহনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন বলেন, গ্রামের লোকজন বাঁধ কাটতে বাধা দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাতে ১০-১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্যপক্ষ সন্ত্রাসী স্টাইলে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে বাধ কেটে দিয়েছে।
নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক ইমাম হোসেন বললেন, আমাদের জমি জলাবদ্ধতায় ডুবে যাচ্ছে। পাউবো মাঝখানে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। এই বাঁধ কেটে দিলে পানি ডাকুয়ার হাওরে থাকবে না, ভাটির দিকে গিয়ে নদীতে পড়ে যাবে। তবুও তারা বাঁধ কাটতে দেয় নি, এজন্য আমাদের লোকজন উত্তেজিত হয়েছে। এসময় দুইপক্ষে মারামারিতে আমিসহ সাত জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলম বলেন, ছনুয়ার হাওরের কৃষকরা জোর করে ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ডাকুয়ার হাওরের কৃষকরা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। শনিবার সকালে দুই এলাকার কৃষকদের নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জরুরি সভা করে একটি কমিটি করে দেন। কমিটি আগামীকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। এর আগেই বৈঠক চলাকালে নোয়াগাঁও, গোলেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুল গ্রামের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, মোহনপুরের ডাকুয়া বাঁধ  এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
সুত্রঃ সু খবর

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ