রাখাল থেকে মাফিয়া ডন জগন্নাথপুরের আজিজ, এখনো সক্রিয় তার সহযোগীরা

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬

রাখাল থেকে মাফিয়া ডন জগন্নাথপুরের আজিজ, এখনো সক্রিয় তার সহযোগীরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে বেড়ে ওঠা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আজকের মাফিয়া ডন আজিজুল ইসলাম ওরফে আজিজ । নিজ ও পরিবার লোকজন এর অন্য-বস্ত্র যোগানের তাগিদে অভাবের তাড়ানায় মানুষের বাড়ী বাড়ীতে আজিজুল ইসলাম কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু ও হাস-মোরগের রাখালি করতেন। রাখালি করলেও যুবক বয়সে আজিজের ছিলো টাকা কামানোর নেশা। দার-দেনা করে ১০/১১ বছর পূর্বে সুনামগঞ্জের আরেক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া পাড়ি জমায় আজিজ। এরপর নিজেই গড়ে তুলেন দেশবিদেশে মাফিয়া চক্র। তার গড়া মাফিয়া চক্রের কবলে পড়ে অনেক পরিবার জায়গা-জমি ও বাড়ী-ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরে জীবন দিতে হয়েছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ যুবকসহ বাংলাদেশের ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘুরে ফিরে এই আজিজুল নামক মাফিয়ার নাম আসছে। এমনকি এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়েরও হয়েছে। তাকে কেউ বলেন আজিজুল ইসলাম আবার কেউ বলেন আব্দুল আজিজ। তবে লিবিয়ায় বাংলাদেশী এই মানবপাচারকারী দালাল মাফিয়া ডন আজিজ নামেই পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সয়লাব আজিজের ছবিতে। শাস্তির দাবি উঠেছে তার। বলা হচ্ছে তার মাধ্যমেই লিবিয়ায় গিয়ে ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে সুনামগঞ্জের ১২ জনের। এই মাফিয়া ডন খ্যাত আজিজ মাঝে মধ্যে দেশে আসলেও পরিবারের সাথে অন্যত্র কয়েকমাস সময় কাটিয়ে আবার দেশ ছাড়েন আজিজ। তবে ভয়ে জগন্নাথপুর কিংবা সুনামগঞ্জে আসে না। সে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত ইছগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজ উল্লাহ্ বয়স চল্লিশের কাছা-কাছি । তাকে নিজ এলাকার বেশীর ভাগ লোকই চিনেন না। তবে তার নাম শুনেছেন। তার নিজের বাড়ি-ঘরের কোনো অস্তিত্ব নেই। স্বশিক্ষিত অর্থাৎ নাম দস্তখত জানা আজিজ যুবক বয়স পর্যন্ত বাড়িতেই থেকেছে। পরিবারও খুব বেশি সচ্ছল ছিল না। নিম্নআয়ের মানুষ হিসেবেই তার পরিবার ছিল। প্রায় ১০ বছর আগে আজিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। কোথায় গেছে প্রথম দিকে কেউ জানতো না। পরে অবশ্য এলাকার মানুষের কাছে জানা-জানি হয় সে লিবিয়ায় আছে । আরো জানাযায়, বাড়িতে আজিজের ভাই, চাচারা রয়েছেন। বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আজিজের সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগ নেই। ৪-৫ বছর আগের ঘটনা। হঠাৎ একদিন তার বউ বাচ্চাকে বাড়ি থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। তারা জেনেছেন আজিজ তার পরিবারকে সিলেট শহরে নিয়ে গেছে। পরে কেউ কেউ অবশ্য জানান- তার স্ত্রী-সন্তানদেরও লিবিয়া নিয়ে গেছে। এখন বাড়িতে আজিজের ভিটে থাকলেও কোনো ঘর নেই। বাড়িতে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নেই। স্বজনরা তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে আরো জানাযায়, জগন্নাথপুর ও পার্শবর্তী দিরাই উপজেলায় এই মাফিয়া ডন আজিজের মানব পাচার নেটওয়ার্ক রয়েছে। এতে ১০/১৫ জন মানবপাচারের কাজ করেন। তাদের মাধ্যমে আজিজ গেমের মাধ্যমে ইউরোপ পাঠানোর নামে লোক খুঁজে। এবং দেশের এই চক্রের সক্রিয় সদস্যরা লিবিয়া গমনেচ্ছু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আজিজুল ইসলাম এর নিকট পাঠায়। এমনকি সুকৌশলে টাকার লেনদেন করে থাকে। এবার যারা ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন তাদের রমজানের আগে দেশ থেকে সৌদি আরব, মিশর হয়ে লিবিয়া নেয়া হয়। যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তারা গোপনেই কাজ করছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও কথিত মাফিয়া ডন আজিজ এর সহযোগীরা মানবপাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকের আত্মীয় -স্বজন এখনো এই মাফিয়া চক্রের কবলে রয়েছে। বিধায় কথিত মাফিয়া ডন আজিজ এর সহযোগী দেশে বসবাসরত মানবপাচারকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর প্রতি আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ