সুনামগঞ্জে ৯ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা||ফ্যাক্টঃ ভূমধ্যসাগরে ১২ যুবকের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

সুনামগঞ্জে ৯ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা||ফ্যাক্টঃ ভূমধ্যসাগরে ১২ যুবকের মৃত্যু

হুমায়ূন কবীর ফরীদি##

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় ৯ জন মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
সম্প্রতি অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে প্লাস্টিকের বোট যোগে গ্রীস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর,দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১২ জন যুবক এর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রাম নিবাসী ভূমধ্যসাগরে নিহত আমিনুর রহমান (২৬) এর পিতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ছাতক উপজেলার গয়াসপুর গ্রাম নিবাসী মৃত মদরিছ মিয়ার ছেলে মানবপাচারকারী বিলাল(৩২)কে প্রধান আসামী করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন( জগন্নাথপুর থানার মামলা নং -৩২,তারিখ –৩০/০৩/২০২৬ ইং, ধারা-মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ-২০২৬ এর ৬/৭/১৯/১৯ এ রুজু)। এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম। এছাড়াও এই ঘটনায় দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের নিহত সুহানুর রহমান এহিয়ার বাবা সালিকুর রহমান বাদী হয়ে ৩০ শে মার্চ রাতে একই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মৃত আকিব উল্লাহর ছেলে মুজিবুর মিয়াকে প্রধান আসামী করে চার জনের নামোল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী।
উল্লেখ্য, বিগত ২১ মার্চ মোট ৪৫ জন অভিবাসী নিয়ে একটি প্লাস্টিকের বোট লিবিয়া থেকে ইউরোপের গ্রীসের  উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তাদের মধ্যে ৩৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি। আর বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩৬ জন সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা।দুঃখজনকভাবে, এই যাত্রাপথে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়ে ২২ জন ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। তমধ্যে সিলেট অঞ্চলের ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এই ১৮ জনের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাও গ্রামের সায়েক আহমদ জনি (৩২), ইছগাঁও গ্রাম নিবাসী শায়েখ আহমেদ(২৮), কবিরপুর গ্রাম নিবাসী মোঃ নাঈম হাসান(২৭), পাইলগাঁও গ্রাম নিবাসী আমিনুর রহমান(৩৮), ইছগাঁও গ্রাম নিবাসী মো: আলি মিয়া(৩৬) ও দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নূরুজ্জামান ময়না (৩০), শাহান মিয়া (২২),সাজিদুর রহমান (২৮), ররনারচর গ্রামের মজিবুর রহমান (৩৮),বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮) এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০)। এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতেদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে এই যাত্রায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ২৮ মার্চ গ্রীসে একটি শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছেছেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। লাশ গুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে আরো জানাযায়, ইউরোপের গ্রিস যাওয়ার জন্য জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলার বাসিন্দা দালাল চক্রের সঙ্গে প্রত্যেককে ১২ লাখ টাকা করে চুক্তি করে ৩/৪ মাস পূর্বে তাঁরা লিবিয়ায় যান। সেখান থেকে গত ৬-৭ দিন পূর্বে রাবার বোটে গ্রিসের উদেশ্যে সাগরপথে যাত্রা করে অভিবাসীরা। (বোটের যাত্রা লোকজনের কাছে ‘গেম’ হিসেবে পরিচিত)। বোটে খাবার ও পানির সংকটের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ২২ জন মারা যান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ