শান্তিগঞ্জে বসতভিটার বারান্দা ভেঙ্গে রাস্তা তৈরীর চেষ্টা, জেলা প্রশাসক ও এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

শান্তিগঞ্জে বসতভিটার বারান্দা ভেঙ্গে রাস্তা তৈরীর চেষ্টা, জেলা প্রশাসক ও এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে অভিযোগ


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

‎সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ টু-রজনীগঞ্জ রাস্তার নির্মাণ কাজে টাইলা বাজারের পাশে অরুন দাস নামে এক দিনমুজুরের রেকর্ডীয় পৈত্রিক সম্পত্তি বসতভিটার বারান্দা ভেঙ্গে ঠিকাদারের লোকজন রাস্তা নির্মাণে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ভূক্তভোগী অরুন দাস গত ৩১ আগষ্ট ন্যায় বিচারের আশায় জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অরুন কুমার দাস টাইলা গ্রামের অদ্বৈত চন্দ্র দাসের ছেলে।

অভিযোগ সূএে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ রাস্তাটির নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় টাইলা বাজারের পাশে অরুন দাসের পৈত্রিক ভিটা বর্তমান স্যাটেলমেন্টের জরিপে ২৮৫ দাগের এবং অত্র খতিয়ানের ১৯৪ অংশের ৭ শতক জায়গাতে ঘর নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

‎কিন্তু সম্প্রতি এই রাস্তার কাজের ঠিকাদার লিটন সিংহ এলজিইডির মাধ্যমে কাজটি পান,এবং ঠিকাদার লিটন সিংহের কাজের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন কনক দত্ত নামের এক ব্যক্তি। তারা অবৈধভাবে অরুন দাসের বাড়ির বারান্দা ভেঙ্গে নিষেধ অমান্য করে কোন কথা না শুনে উল্টো অরুন দাসকে হুমকি দামকী দিয়ে বাড়ির বারান্দা ভেঙ্গে ফেলে জোর পূর্বক রাস্তা তৈরি করছেন। জানা যায় অরুন দাস একজন দিনমুজুর গরীব পরিবারের সন্তান। অন্যের স-মিলে ড্রাইভারি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। তাছাড়া এই রাস্তার যে কাজ করানো হচ্ছে সেখানে মেনোয়েলে যে সমস্ত উন্নত মানের ইট, বালু পাথ ও রড সিমেন্ট ব্যবহার করে রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা। সেখানে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে একদিকে ঢালাইয়ের কাজ চলমান থাকলেও অন্যদিকে নির্মাণ রাস্তায় ফাটল ধরেছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে টাইলা গ্রামের, ঠাকুরভোগ গ্রামের হাজারো জনতা এই রাস্তার কাজে অনিয়ন দূর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য দিবেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
‎অরুন দাসের একমাত্র সম্বল হচ্ছে তার পৈত্রিক ভিটা বাড়িটি। সামনে বারান্দা ভেঙ্গে ফেলার বিষয়টি তদন্ত সপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে অরুন দাসের পৈত্রির জায়গা উদ্ধারসহ সঠিক তদন্ত করে সরকারি কাজের অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন জেলা প্রশাসন এমনটাই দাবী জানানা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী অরুন কুমার দাস জানান,আমার পৈতিক রেকর্ডীয় জায়গায় ছেলে সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলাম। কিন্ত ঠিকাদারের প্রতিনিধি কনক দত্ত রাস্তার কাজে আমার বসতঘরের সামনের বারান্দা ভাঙ্গার সময় বাধা দিলে আমাকে ধমক দেন এবং বারান্দা ভাঙ্গার কাজ করেন। আমি গরূব মানুষ ন্যায় বিচারের স্বার্থে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারের প্রতিনিধি কনক দত্তকে হুমকি ও ধমক দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন আমি টাইলা গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে রাস্তা মাফ নিয়েই অরুন দাসের বারান্দার কিছুটা অংশ ভেঙ্গেছি। এখনো রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ইট,বালু,পাথর,রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ ও একদিকে ঢালাইয়ের কাজ করলেও ঢালাই করা রাস্তায় ফাটল ধরেছে এমন প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি তার কাছ থেকে।

‎এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

‎এ ব্যাপারে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে নির্দেশনা দেওয়া আছে সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ