কয়ছর এম আহমদ এর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ খারিজ, মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন তালহা আলম

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

কয়ছর এম আহমদ এর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ খারিজ, মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন তালহা আলম

ছবি: ইউএস বাংলা বার্তা গ্রাফিক্স
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সদ্য সাবেক যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারন সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ১৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগের আপিল শুনানীতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগ খারিজ করে নির্বাচন কমিশন। বিএনপির কয়ছর এম আহমদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ খারিজ ও মনোনয়ন বৈধতার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগটি খারিজ হওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাঁধা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে বিএনপি প্রার্থীর কয়ছর এম আহমদের মনোনয়ন বাতিলের জন্য বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন নির্বাচন কমিশনে ৮ জানুয়ারি আপিল মোকদ্দমা দায়ের করেন। একই অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান আপিল মোকদ্দমা দায়ের করেন। অপরদিকে, কয়ছর আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে আপিল মোকদ্দমা দায়ের করেন।
এদিকে কয়ছর এম আহমদের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ খারিজ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সুনামগঞ্জ -৩ আসনের বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতার্মীরা। অনেকেই স্বস্তি প্রমান করে অনুভূতি ব্যক্ত করেন অনেক নেতাকর্মী। শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রওশন খান সাগর,বলেন কয়ছর আহমেদের মনোনয়ন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সকল ষড়যন্ত্র উৎখাত করে সত্যের জয় হয়েছে। এলাকায় ধানের শীষের জোয়ার চতুরদিকে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিপুল ভোটে কয়ছর আহমদ বিজয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ।
এ ব্যাপারে কয়ছর এম আহমদ বলেন,আমি প্রথম থেকে বলে আসছিলাম আমি দ্বৈত নাগরিক নই। অভিযোগ দায়েরের পর কমিশনের কাছে সকল তথ্য সরবরাহ করেছি। বৃহস্পতিবার শুনানী শেষে কমিশন অভিযোগ খারিজ করেছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় শুরু কথা জানান তিনি।
এদিকে একই দিন একই আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দুপুরে আপিল শুনানিতে তার প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। তবে তালহা আলম দাবি করেছিলেন, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে কোনো ভুল ছিল না এবং তিনি নিয়মিত করদাতা। রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, শুনানীর সময় আমাদের অফিস থেকে প্রতিনিধি ছিলেন। আমরা লিখিত চিঠি না পেলেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে আপীলে বিএনপি প্রার্থী কয়ছর এম আহমদের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ খারিজ ও এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ