সুপারের ছেলের উত্তরপত্র হলের বাইরে থেকে লিখে এনে ধরা তিন শিক্ষক

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬

সুপারের ছেলের উত্তরপত্র হলের বাইরে থেকে লিখে এনে ধরা তিন শিক্ষক

 

ইউএস বি ডেস্কঃ
জীববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহর পরীক্ষার উত্তরপত্র বাইরে থেকে লিখে এনে জমা দেওয়ার কাজ করছিলেন তিন শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তারা দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়ম করে আসছিলেন। বুধবারও একই কায়দায় উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় এক মাদরাসা সুপারের ছেলের উত্তরপত্র বাইরে থেকে লিখে এনে ধরা পড়েছেন তিন কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক। এ ঘটনায় সুপারের ছেলে মোহাম্মদ নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়েছে।গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার মল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদরাসা পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ দিন আটক তিন শিক্ষকের পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো ডিউটি ছিল না।
আটক তিন শিক্ষক হলেন- উপজেলার মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ওই মাদরাসারসুপার মাওলানা আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
র‍্যাব সূত্রে জানান, জীববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহর পরীক্ষার উত্তরপত্র বাইরে থেকে লিখে এনে জমা দেওয়ার কাজ করছিলেন তিন শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তারা দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়ম করে আসছিলেন। ২০ শে মে রোজ বুধবারও একই কায়দায় উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের আটকের পর কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কিছু বহিরাগতও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে যান। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আটক শিক্ষকরা দাবি করেছেন, মাদরাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজে তাদের বাধ্য করেছে। তাদের ভাষ্য, তারা স্বেচ্ছায় এ কাজ করেননি।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে মাদরাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রবীর প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হই। তদন্ত করে জানতে পারি, পূর্বেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। আজও র‍্যাবের হাতে বাইরে থেকে তিনজন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সুত্রঃ দৈনিক শিক্ষা অনলাইন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ